1. adnanfahim069@gmail.com : Adnan Fahim : Adnan Fahim
  2. admin@banglarkota.com : banglarkota.com :
  3. kobitasongkolon178@gmail.com : Liton S.p : Liton S.p
  4. miraz55577@gmail.com : মোঃ মিরাজ হোসেন : মোঃ মিরাজ হোসেন
  5. ridoyahmednews@gmail.com : Ridoy Khan : Ridoy Khan
  6. irsajib098@gmail.com : Md sojib Hossain : Md sojib Hossain
  7. zahiruddin554@gmail.com : Md. Zahir Uddin : Md. Zahir Uddin
বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজঃ

আপনার লেখা গল্প,কবিতা,উপন্যাস, ছড়া গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করতে যোগাযোগ করুন। সাগরিকা প্রকাশনী ০১৭৩১৫৬৪১৬৪৷ কিছু সহজ শর্তে আমরা আপনার পান্ডুলিপি প্রকাশের দায়িত্ব নিচ্ছি।

স্মৃতির পাতা থেকে ⇨আলকামাহ শাকিলুর রশিদ। দৈনিক বাংলার কথা অনলাইন।

রিপোর্টার মোঃ মিরাজ হোসেন।
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২ মে, ২০২১
  • ১৮৪ বার পড়া হয়েছে

স্মৃতির পাতা থেকে
⇨আলকামাহ শাকিলুর রশিদ

নভেম্বর প্রায় শেষ। স্কুল থেকে জে এস সি পরিক্ষা দিয়ে আসলাম। পরিক্ষা শেষ, তাই মন খুব ভালো। এতোদিন খুব চিন্তা ছিলো পরিক্ষার বিষয়ে। এখন হোস্টেল জীবনকে খুব মনে পড়ছিল।বাসায় এসে কোনো কাজ নেই। বেকারের মতো একদম।আম্মু বললেন,” কোনো কাজ নেই, এরকম হলে তো হবেনা,বাসায় এসেছ বলে কি পড়ালেখা বাদ দিয়ে দিতে হবে নাকি?” রেজাল্ট দিতেও আরো ১ মাস বাকি আর স্কুলে ভর্তি হতেও ২ মাস বাকি। এতো সময় কি করবো?আম্মু বললেন কম্পিউটার কোর্স করলে কেমন হয়? আমি বললাম অনেক ভালো হবে।আমারও কম্পিউটার শিখার অনেক আগ্রহ।তাছাড়া বেকার সময়টা কাজে লাগাতে পারবো।আম্মু বললেন,”তাহলে তুমার আব্বুর সাথে কথা বলে দেখি। “আব্বু আর কি বলবেন,উনিও তো চাচ্ছিলেন আমার হাতের সময়টা বেকার না গিয়ে কিছু একটা শিখে নিই।আব্বু-আম্মু দুজনেই আমাকে নিয়ে চলে গেলেন কম্পিউটার কোর্স সেন্টারে। ভর্তি করিয়ে দিলেন সেখানে।কোর্স সেন্টারটি ছিলো আমার বাড়ির থেকে একটু দূরে যেখানে আমার আব্বুর অফিস ছিলো।আব্বু প্রত্যেক দিন বাইকে করে অফিসে যেতেন। তো আমার জন্যও সুবিধা হলো।আব্বুর সাথে খুব ভোরেই বাইকে চড়ে চকে যেতাম।আর আমার কোর্সের সময়ও ছিলো সকাল ১০ টা থেকে ১১ টা। কোর্স শেষ করে বাকি সময়টা আব্বুর সাথে অফিসে কাটাতাম আর দুপুরে কাওয়ার সময় হলে আব্বু আর আমি বাসায় চলে যেতাম।প্রথম দিন যখন কোর্সে গেলাম, আংকেল(কোর্সের স্যার) আমাকে কম্পিউটার অপেন করতে বললেন।আমি তো পারছিলামনা,বরং লজ্জায় কিছু বলতেও পারছিলামনা। আংকেল বললেন কিভাবে অপেন করতে হয়।সেদিন থেকে শিখে নিলাম কিভাবে কম্পিউটার অপেন করতে হয়।তারপর তিনি আমাকে একটা পত্রিকা দিয়ে ওখানে যা আছে তা কম্পিউটার এ টাইপ(লিখতে) বলে আমার সহপাঠী আরেকজনের কাছে গেলেন। আমি ওই দিনের ঘটনা কোনোদিন ভুলতে পারবোনা।আমার একটা অক্ষর লিখতে ১ মিনিট করে সময় চলে গেছিলো।পত্রিকার অক্ষরটা দেখে আবার কম্পিউটারের কি বোর্ডে খুজতে আমার ১ মিনিটের চেয়ে বেশি সময় চলে গেছিলো। ৩ লাইন লিখছিলাম কোনোমতে ওইদিন।প্রথম প্রথম একটু লজ্জা লাগতো।আস্তে আস্তে এভাবে কোর্স করতে করতে সবার সাথে বন্ধুত্ত সৃষ্টি হলো আর কি বোর্ডে লেখার দক্ষতাও বাড়তে থাকলো। একজন কিছু একটা না পারলে সেটা অন্য বন্ধু সাহায্য করতো। সবার সাথে খুব ভালো বন্ধুত্ত হলো।১ মাস হয়ে গেলো।এবার জে এস সি রেজাল্ট দেওয়ার সময় হলো। আব্বু ফোন নিয়ে তৈরি রেজাল্ট দেখার জন্য। কলিজাটা কাপছিলো আর মনেও চঞ্চলতা বেড়ে যাচ্ছিলো রেজাল্ট দেখার জন্য।আমি তখন কম্পিউটার কোর্সে ছিলাম, আব্বু হঠাৎ গিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে কেদেঁ ফেললো।ততক্ষণে আর বুঝাটা বাকি রইলোনা।আমিও কেঁদে দিলাম আব্বুর সাথে আর আব্বুকে কদমমুচি করে সালাম করলাম।আর আব্বু সবাইকে মিষ্টি খাওয়ালো।আব্বু তো খুশিতে আত্মহারা।বাসায় যাওয়ার আগেই আম্মু আর সবাই প্রস্তুত আমাকে অভিনন্দন জানাতে আর ভালোবাসতে।বাসাই গেলাম আম্মুকেও কদমমুচি করে সালাম করলাম আর সবার সাথে অনেক আনন্দই না করলাম। কম্পিউটার কোর্সও চলছিলো ঠিকমতো।সেখানকার আংকেল অনেক ভালোবাসতেন আমাকে নিজের ছেলের মতো। আর বন্ধুরাও অনেক কাছের হয়ে গেছিলো।এবার চলে এলো স্কুলে যাওয়ার পালা।অনেক দিন হোস্টেল ছেড়ে বাসায়, তাই হোস্টলকেও অনেক মনে পড়ছিলো।ততোদিনে আমার কোর্সও প্রায় শেষ হয়ে গেছিলো। আর ১ মাস মতো বাকি ছিলো প্রায়।তবু্ও স্কুলে চলে যেতে হলো। কারণ,বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়তে চাইলে ওখানে আবার পরিক্ষা দিয়ে টিকতে হবে।তাই সবার সাথে কোর্সের শেষ সময়টা কাটাতে পারলামনা। স্কুলেও বিজ্ঞান বিষয়ের পরিক্ষায় ভালো ফলাফলের মাধ্যমে বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়ালেখা শুরু করলাম। মার্চ মাসে এসে বাসা থেকে আব্বু ফোন দিয়ে বললেন আমার কম্পিউটার কোর্সের পরিক্ষা হবে। আমি তো দারুণ খুশি!!কারণ হোস্টেল থেকে বাসায় যেতে পারবো আর সবাইকেও দেখতে পারবো।আব্বু হোস্টেলে এসে আমাকে বাসায় নিয়ে গেলেন ৩ দিনের ছুটিতে। বাসায় গিয়ে পরিক্ষা দিলাম। আবার হোস্টেলে চলে এলাম।কয়েকদিন পর আব্বু কল দিয়ে বললেন আমার পরিক্ষার রেজাল্ট বের হয়েছে। আমি সেবারেও A‌‌‌‍+ পেয়েছিলাম। ভাবলাম আব্বু আম্মুর পরিশ্রম সফল হলো।আসলে আব্বু আম্মু না চাইলে আমি এতোদূর এগিয়ে যেতে পারতামনা। আর তাদের কোনো ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারবোনা।শুধু এটা বলতে পারি, তাদের সেবা করেই জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাই।তাদের ভালোবাসা এবং আশীর্বাদ যদি আমার সাথে থাকে তাহলে কোনোদিন আমাকে কোনোকিছুতে হার মানতে হবেনা। জীবনের কয়েকটা সিড়ি বেয়ে উঠতে পেরেছি। এখনো অনেক কিছু বাকি আছে, অনেক সিড়িই বাকি।জীবনের বাকি সিড়িগুলোও সফলভাবে উঠতে পারি মতো সকলের কাছে দোয়াপ্রার্থী।
আজকের এই ছোটগল্প এখানেই শেষ করছি।
ধন্যবাদ সবাইকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

2 thoughts on "স্মৃতির পাতা থেকে ⇨আলকামাহ শাকিলুর রশিদ। দৈনিক বাংলার কথা অনলাইন।"

  1. Md Taiam says:

    Amon aro onek chi, tor sapna poran hok.

    1. Alkamah says:

      Tnq u vai.
      Miss @ love u soo much.
      Toder support ar doa paisi bole tu aj…………

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সাগরিকা প্রকাশনী ও বই বিপণি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত