1. adnanfahim069@gmail.com : Adnan Fahim : Adnan Fahim
  2. admin@banglarkota.com : banglarkota.com :
  3. kobitasongkolon178@gmail.com : Liton S.p : Liton S.p
  4. miraz55577@gmail.com : মোঃ মিরাজ হোসেন : মোঃ মিরাজ হোসেন
  5. ridoyahmednews@gmail.com : Ridoy Khan : Ridoy Khan
  6. irsajib098@gmail.com : Md sojib Hossain : Md sojib Hossain
  7. zahiruddin554@gmail.com : Md. Zahir Uddin : Md. Zahir Uddin
বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজঃ

আপনার লেখা গল্প,কবিতা,উপন্যাস, ছড়া গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করতে যোগাযোগ করুন। সাগরিকা প্রকাশনী ০১৭৩১৫৬৪১৬৪৷ কিছু সহজ শর্তে আমরা আপনার পান্ডুলিপি প্রকাশের দায়িত্ব নিচ্ছি।

গল্পঃ অভিনয়। মোঃআফজালুর রহমান। ১ম পর্ব

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে

গল্পঃ অভিনয়।
মোঃআফজালুর রহমান।
১ম পর্ব


এখন রাতে ঠিক মত ঘুমাতে পারিনা। মাঝরাতে দুইটা তিনটায় ঘুম মেঙ্গে যায় পরে আর ঘুম আসেনা। বহু চেষ্টা করেও ঘুমাতে পারি না।নিজেকে কেমন যেন একা একা লাগে ভিষন্ন লাগে খুব।এপাশ ওপাশ করে রাত কাটে এ যেন অসয্য যন্ত্রণা। এ এমন এক যন্ত্রণা যা কারো কাছে ব্যখ্যা করাও দায় একা একাই তা বহন করতে হয়।মাঝরাতে ফেইসবুক আর ইউটিউব ঘেটে রাত পার করি এখন।মাঝে মাঝে কাওকে কল দিয়ে কথা বলতে ইচ্ছে হয়,তাও পারিনা, এত রাতে কাকে কল দিবো কল দিয়ে কি বলবো সেটাও ভাবি।মাঝ রাতে কল দিয়ে কথা বলার মত কোনো বন্ধুও এখন আমার নাই।একটা সময় অবশ্য ছিল কিন্তু একজন কে চেয়ে সবাইকে হারিয়েছি পাইনি তাকেও।
ফোনের কন্ট্রাক্ট নাম্বার খুজতে গিয়ে তারিনের নাম্বার চোখে পড়ল। কল দিবো কি দিবো না এটা ভাবতে ভাবতেই একটা রবীন্দ্র সংগীত শেষ।এই গানটা এখন খুব শুনি।রাতে ঘুম ভাংলেই গানটা চালাই একাধিকবার শুনেও যেন সাধ মিটেনা।গানের প্রতিটি কথা কেমন যেন আমায় ভাবায়,গানটা যদি ঠিক এক বছর আগে শুনতাম তাহলে হয়তো আজ আমি সুখ করে ঘুমাতে পারতাম। সত্যিই কি ভালবাসা যাতনাময়? আমার কাছে তো আজ তাই মনে হয়,এটা যদি আগে মনে হত তাহলে জীবনটা সেই আগেরমতই গুছানো আর সুন্দর থাকতো।
তারিনের নাম্বারে ক্লিক করলাম কল হচ্ছে কিন্তু তুলছে না।
এখন কেমন যেন একটা মোহো কাজ করছে ভিতরটায়।একবার মনে হচ্ছে না থাক বেচারির ঘুম ভেঙে লাভ নাই হয়তো কিছু আগেই ঘুমিয়েছে। আবার খুব ইচ্ছে হচ্ছে ওর গলার স্বর শুনতে কতদিন শুনা হয়নি।একটা সময় ছিল ঘুম ভাঙতো তার কন্ঠ শুনে।আমাকে কল দিয়ে জাগিয়ে নাস্তা করতে বলতো আবার মধ্যাহ্নে জাগিয়ে বলতো গোসল করে নাও রাতেও তার কন্ঠে শুভরাত্রি না শুনলে যেন ঘুমই আসতো না।সারাদিনে কয়েকশ খুদে বার্তায় কথা হত আমাদের।আজ তাকে কল দিতে আমাকে কত কি ভাবতে হচ্ছে।
ফোণটা হাতে নিয়ে তার নাম্বারে আবার ক্লিক করলাম কল হচ্ছে আমি ফোণের সাউন্ড বারিয়ে ফোণ বুকের উপর ফেলে রেখেছি।এই বুকে কত মাথা রেখে সে ঘুমিয়েছে তার কোনো সীমা নেই।
কলটা শেষ হবে ঠিক এমন সময় ঘুমে ভিভূর একটা গলা থেকে ছোট্ট একটা শব্দ ভেসে আসলো “হ্যালো”।
আমার মনে হচ্ছিল চৈত্রের প্রখর রোদে ক্লান্ত শ্রান্ত মৃত্যুপ্রায় এক পথিক কে এক গ্লাস বরফ ঠান্ডা পানি দিলে তার ভীতরটা যেমন করে শান্তির ভূবনে হারিয়ে যাবে আমার অবস্থাও তখন এমন। আমি যেন নিমিশেই হারিয়ে গেছি ঠিক এক বছর আগের কোনো এক রাতে আমার ঘুম আসছে না আমি তারিন কে কল দিয়েছি সে সদ্য ঘুমের ঘোরে আমার কল ধরেছে।বেশিক্ষণ সেই কল্পনাতে থাকতে পারলাম না।বার বার হ্যালো আর কে কে করে বিরক্ত হয়ে তারিন কলটা কেটে দিয়েছে।
আমি তার ঘুমন্ত আবেগময় নরম গলা আরেকবার শুনার জন্য তারিন কে কল দিলাম,সে আবার হ্যালো হ্যালো বলে কল কেটে দিলো। খুব ইচ্ছে হচ্ছে তার কথার উত্তর দেই কিন্তু উপায় যে নাই।হঠাৎ খেয়াল করলাম আমার গালে ঠান্ডা পানি জাতীয় কিছু একটা গড়িয়ে বালিশের দিকে আসছে হাত দিয়ে ধরে দেখি চোখ থেকে পানি পড়ছে।
চোখটাও আজ পর হয়ে গেছে কখন কাদে তাও টের পাইনা। আচ্ছা চোখের পানিটা কি তারিনের জন্য? না হতেই পারেনা।আমি তারিনকে ঘৃণা করি,হ্যা ঘৃণাই করি।আচ্ছা তাহলে আমি তারিন কে কেন কল দিলাম? আমি কি সত্যি তারিন কে ঘৃণা করি নাকি ঠিক আগেরমতই ভালবাসি। এখন মনও বড় বেইমানি করে চোখেরমত। আমাকে যে এত কষ্ট দিলো আমার সব যে কেড়ে নিলো, আমার হাসি,সুখ,আনন্দ সব যে ছিনিয়ে নিয়ে গেলো তারা আজও তাকে ভুলতে পারেনি। আমার সাথে বসবাস করলেও মন যে তারিনের কাছেই থাকে তা আমি মাঝে মধ্যেই টের পাই।
সত্যিই কি যাকে ভালবাসা যায় তাকে ভুলা যায়?কোনো ভাবেই কি তাকে ঘৃণা করা যায়?.
এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর আমার জানা নাই।এও জানা নাই কেন আমি তারিন কে কল দিয়েছি।
তারিন তো আমার সাথে যোগাযোগ করতে চেয়েছিল আমি তো তখন তাকে অপমান করেছিলাম।হ্যা কেন অপমান করেছিলাম তার উত্তর আমার কাছে আছে।
আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে তার এই যোগাযোগ করার পিছনেও রয়েছে তার বিশাল প্লান যা আমার ক্ষতি তার লাভের জন্যেই সে করছে।তাহলে আজ কেন তাকে নিয়ে আমি এত ভাবছি? আমি কি তারিন কে ভুলতে পারিনি? আজও কি তাকে আমি ভালবাসি?। এরও কোনো উত্তর আমার জানা নেই।
তারিনের সাথে ঠিক কবে কোথায় কিভাবে আমার পরিচয় হয়েছিল তাও আমার মনে নেই।হয়তো ভার্সিটির কোথাও।তারিন আমার দুই সেমিস্টার নিচের।ক্লাস ছিল আর আমি ক্যামপাসে যাইনি এমনটা কখনই হয়নি। তবে ক্যামপাসে কোনো মেয়ের সাথে আড্ডা দেয়া ঘুরাঘুরি করার অভ্যাস আমার ছিল না।
ক্লাস শেষ সুঝা রুমে ফিরে আসতাম।মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেদের যা হয় আমারও তার ব্যতিক্রম ছিল না।
টিউশনি করাতাম তবে খুব বেশি না ঠিক যতটা আমার প্রয়োজন। একটা সেন্টারে ক্লাস নিতাম আর দুই একটা বাসায় পড়াতাম যা দুইটার বেশি না।বাসায় গিয়ে পড়াতে আমার ভালো লাগতো না কিন্তু কিছু করার থাকতো না কখনো কখনো। আমার এক প্রফেসার এর মেয়েকে পড়াতে হত। উনার স্ত্রী আমাকে খুব আদর করতেন।

চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সাগরিকা প্রকাশনী ও বই বিপণি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত