1. adnanfahim069@gmail.com : Adnan Fahim : Adnan Fahim
  2. admin@banglarkota.com : banglarkota.com :
  3. kobitasongkolon178@gmail.com : Liton S.p : Liton S.p
  4. miraz55577@gmail.com : মোঃ মিরাজ হোসেন : মোঃ মিরাজ হোসেন
  5. ridoyahmednews@gmail.com : Ridoy Khan : Ridoy Khan
  6. irsajib098@gmail.com : Md sojib Hossain : Md sojib Hossain
  7. zahiruddin554@gmail.com : Md. Zahir Uddin : Md. Zahir Uddin
বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজঃ

আপনার লেখা গল্প,কবিতা,উপন্যাস, ছড়া গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করতে যোগাযোগ করুন। সাগরিকা প্রকাশনী ০১৭৩১৫৬৪১৬৪৷ কিছু সহজ শর্তে আমরা আপনার পান্ডুলিপি প্রকাশের দায়িত্ব নিচ্ছি।

গল্পঃ মহামারি করোনা লেখিকাঃ আফছানা খানম অথৈ।বাংলার কথা অনলাইন।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

গল্প
মহামারি করোনা
আফছানা খানম অথৈ

মজনু গরীব পরিবারের সন্তান।তারা পাঁচ ভাই-বোন।বাবা দিন মজুর,মা গৃহিণী।মজনু পড়া-লেখায় ভালো। তাই বাবা তাকে ক্ষেতের কাজে না লাগিয়ে পড়তে দিলেন।তাদের অভাব অনটনের সংসার তবুও বাবা তার লেখা-পড়ার খরচ চালিয়ে যান ঠিকমতো। মজিদ মিয়া ছেলের বেতন দিতে গেলে  হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক  বললেন,
মজিদ মিয়া তোমার ছেলে এবার ও পরীক্ষায় ফাস্ট হয়েছে,মানে সবার সেরা।তোমাকে ধন্যবাদ।
দোওয়া করবেন স্যার সে যেন মেট্টিক পরীক্ষায় ভালো ভাবে পাশ করে।
দোওয়া করি সে যেন তোমার আমাদের স্কুলের সবার মুখ উজ্জ্বল করে।
তাই যেন হয় স্যার।
স্যারের সঙ্গে কথোপকথন শেষ করে মজিদ মিয়া বাড়ি ফিরে দেখে তার ছোট মেয়ের ডায়রিয়া।বউ এগিয়ে এসে বলল,
ওগো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি দেখছেন,তাড়াতাড়ি ঔষধ নিয়া আসেন।
মজিদ মিয়ার হাতে টাকা নেই।কারণ এই মাত্র ছেলের স্কুলের বেতন সেশন ফি দিয়ে এসেছে।হাত একেবারে খালী।কি করবে না করবে ভেবে পাচ্ছে না।তবুও খালী হাতে ছুটে গেল ডাক্তারের কাছে।পল্লী ডাক্তারকে বুঝিয়ে মেয়ের জন্য কিছু ঔষধ পথ্য নিয়ে আসল।যাক আল্লাহর রহমতে মেয়ে সুস্থ হয়ে উঠল।মজনু স্কুল থেকে ফিরল সবেমাত্র।মজিদ মিয়া ছেলেকে দেখে বললেন,
ওগো মজনু এসেছে তাকে খেতে দাও।
মা আর দেরী করলো না।ছেলেকে খেতে দিলো।খানা খেয়ে মজনু পড়তে বসল।
মা-বাবার স্বপ্ন ছেলে অনেক বড় বিদ্যান হবে।বড় চাকরী করবে।তাদের অভাব অনটন আর থাকবে না।তাই নিজেরা না খেয়ে ছেলেকে খাওয়ান।নিজেরা ছেঁড়া কাপড় পরে ছেলেকে ভালো কাপড় পরান।নিজেরা উপোষ থেকে ছেলের লেখা পড়ার খরচ চালান।এমনি দু:খ কষ্টের মধ্য দিয়ে মজিদ মিয়া দিনকাল যাপন করছে।
এর ফাঁকে কেটে গেল কিছু সময়। মজনু মেট্টিক পাশ করলো জিপিএ ৫ পেল।
বাবা-মায়ের বুকটা আনন্দে ভরে উঠল।গ্রামের লোকজন ও খুশি,সবাই এক সঙ্গে বলল,
কি মজিদ মিয়া ছেলে তো বড় পাশ দিয়েছে।এবার আমাদেরকে মিষ্টি মুখ করাও।
মজিদ মিয়া দীর্ঘশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে বলল,
করিম ভাই হাতে টাকা নাই।তাই মিষ্টি খাওয়াতে পারলাম না।সবাই দোওয়া করবেন মজনু যেন মানুষের মতো মানুষ হয়।তখন সবাইকে বেশী করে মিষ্টি খাওয়াবো।
সবাই একবাক্যে বলে উঠল,
দোওয়া করি আমাদের  মজনু যেন মানুষের মতো মানুষ হয়।
ছেলে বড় পাশ দিয়েছে।এবার তাকে ভালো কলেজে ভর্তি করাতে হবে।কিন্তু ভালো কলেজে ভর্তি করাতে অনেক টাকা লাগবে। এত টাকা মজিদ মিয়া কোথায় পাবে।খুব চিন্তায় পড়লেন তিনি।তাকে চিন্তা করতে দেখে স্ত্রী বলল,
ওগো বসে বসে কি ভাবছেন?
ভাবছি ছেলের কলেজে ভর্তির টাকা কোথায় পাব।
চিন্তা করবেন না।আল্লাহ এক ব্যবস্থা করে দেবেন।আমি কথা বলে রেখেছি,গ্রামের সমিতি থেকে লোন নেব।
ওরা দিবেতো।
হ্যাঁ দিবে।এখন শুয়ে পড়ুন।
মায়ের ঋনের টাকায় মজনু কলেজে ভর্তি হলো।সে পড়া-লেখায় মন দিলো।
এর ফাঁকে কেটে গেল কিছু সময়।মজিদ মিয়া ক্ষেত নিড়ানি দিয়ে সবেমাত্র বাড়ি ফিরল।করিম ঘটক হেসে উঠে সালাম দিয়ে বলল,
মজিদ ভাই আপনার মেয়ের জন্য একটা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছি।ঘর বর সবই ভালো।
কার ছেলে?কি করে?
উত্তর পাড়ার রহিম মিয়ার ছেলে টেক্সির ড্রাইভার।
ওদের চাওয়া-পাওয়া…।
তেমন কিছু না।পঞ্চাশ হাজার টাকা নগদ দিতে হবে।ছেলে একটা গাড়ি কিনবে?
এক সঙ্গে এত টাকা কোত্থেকে দেবে।তাই মজিদ মিয়া বলল,
করিম ভাই আপনি এখন যান।আমি একটু ভেবে দেখি।
মজিদ ভাই ভাবাভাবির কি আছে।ছেলে খুব ভালো।এমন ছেলে হাত ছাড়া করলে পরে খুঁজে পাবে না।
ভিতর থেকে স্ত্রী বলল,
ওগো আপনি না করছেন কেনো।পাকা কথা দিয়ে দেন।
না মানে এত টাকা…।
টাকার জন্য চিন্তা করবেন না।আল্লাহ এক ব্যবস্থা করে দেবেন।
তা বুঝলাম।কিন্তু এত টাকা কোথায় পাব।
সমিতি থেকে লোন নেব।
মজিদ মিয়া আর না করলেন না।বিয়ের কথা পাকা করলেন।গ্রামের দুই সমিতি থেকে স্বামী-স্ত্রী দুজনের নামে এক লক্ষ টাকা ঋন নিলেন।তারপর নগদ টাকা দিয়ে মেয়ে রাহেনার বিয়ে দিলেন।বর্তমানে যৌতুক ছাড়া মেয়েদের বিয়ে হয়না।গরীবদের বেলায় নগদ টাকা,আর  বড় লোকদের বেলায় স্বর্ণ অলংকার ফার্নিচার ইত্যাদি।এটা এখন আমাদের সমাজের  রীতিনীতি।
এর ফাঁকে কেটে গেল কবছর।মজনু ইনটার অনার্স শেষ করল।ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্সে ভর্তি হলো।দেশে আসল মহামারি করোনা।সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে লক ডাউন ঘোষণা করলেন।সবাই স্ব স্ব বাড়িতে অবস্থান করলো।মজনু ও বাড়ি ফিরে আসল।বাবা-ভাই সবার কাজ কর্ম বন্ধ।পরিবারে কোন আয় রোজগার নেই।অর্ধাহারে অনাহারে তাদেরকে দিন কাটাতে হচ্ছে।টিভিতে খবর প্রচার করছে সরকার গরীবদের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা অনুদান দিচ্ছে।কিন্তু ওরা কিছুই পাচ্ছেনা।তাদের কষ্ট আর কষ্ট…।
হঠাৎ মাঝ রাতে মজনুর শ্বাস-কাশ ও জ্বর দেখা দেয়।মজিদ মিয়া ভাবে এটাতোম মহামারি করোনার লক্ষণ,এখন উপায় ছেলেকে এত রাতে কোথায় নেব।তাছাড়া টাকা পয়সা ও হাতে নেই।কি করব এখন।পরিবারের সবাই এক প্রকার আতংকের মধ্য দিয়ে রাত পার করল।সকাল হলে মজিদ মিয়ার স্ত্রী মনোরা বেগম ছুটে গেল গ্রামের সমিতির কাছে।দশ হাজার টাকা ঋন চাইলে সভাপতি বলল,
দেখুন আপনাদের আগের ঋন এখনো পরিশোধ হয়নি।তাছাড়া দেশে এখন মহামারি করোনা ,আমরা এখন কোন ঋন দেব না।
মনোরা বেগম অনেক অনুনয় বিনয় করে ঋন চাইল।কিন্তু কোন লাভ হলোনা।সভাপতির এক কথা দেশে এখন মহামারি করোনা  ঋন দেয়া যাবেনা।এরপর মনোরা বেগম ছুটে গেল অন্য সমিতির কাছে।তাদের ও এক কথা আগের ঋন পরিশোধ না হতে নতুন কোন ঋন দেয়া যাবেনা।তাছাড়া দেশে মহামারি করোনা  নতুন কোন ঋন দেয়া হবেনা।অনেক অনুনয় বিনয় করলেন।কিন্তু কোন লাভ হলো না।এভাবে সে আর ও কয়েকটা সমিতির ধর্না ধরল।কেউ তাকে ঋন দিলোনা।শেষে এক বুক দু:খ নিয়ে বাড়ি ফিরে আসল।
এদিকে মজনুর রোগ বেড়ে চলেছে।শ্বাস-কাশ জ্বর…।
মনোরা বেগমের মাটির ব্যংকে কিছু টাকা জমা ছিল।তিনি ব্যাংক ভেঙ্গে দেখলেন এতে হাজার খানেক টাকা হবে।এই টাকা দিয়ে ছেলেকে ডাক্তারের কাছে নিতে প্রস্তুত হলেন মজিদ মিয়া।টেক্সি ডাকতে ড্রাইভার বলল,
আপনার ছেলের মহামারি করোনা, আমি যেতে পারব না।
এরপর গেল আরেক জনের কাছে,সে ও বলে আপনার ছেলের মহামারি করোনা আমি যেতে পারব না।এভাবে সে কয়েক জনের কাছে গেল।সবাই এক কথা বলে ফিরিয়ে দিলো।শেষে  একজনের মায়া হলো সে বলল,
মরলে মরব তবুও আমি যাব।চলেন চাচা…।
মজিদ মিয়া ও তার স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে রওয়ানা দিলো।ঘন্টা খানেকের মধ্যে তারা হাসপাতালের সামনে এসে গাড়ি ব্রেক করল।মজিদ মিয়া ডাক্তার ডাকতে গেলে তিনি বললেন,
কিট নেই,সিট খালী নেই।আপনারা অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
মজিদ মিয়া ফের ছেলেকে নিয়ে অন্য হাসপাতালের দিকে রওয়ানা দিলো।সেখানে যাওয়ার পর ডাক্তার বলল,
আপনার ছেলের মহামারি  করোনার লক্ষণ।পরীক্ষা-নিরীক্ষায় পাঁচ ছয় হাজার টাকা লাগবে।এছাড়া  ঔষধ পথ্য ও অন্যান্য খরচ লাগবে,টাকা আছে?
মজিদ মিয়া কেঁদে কেঁদে বলে,
ডাক্তার সাহেব আমার গরীব মানুষ এত টাকা কোথায় পাব।তাছাড়া দেশে এখন লক ডাউন কাজ কর্ম করতে পারিনা।ডাক্তার সাহেব আমার ছেলেটারে বাঁচান,তার চিকিৎসা করান।
এসব মায়া কান্না কোন লাভ হবেনা।আগে টাকা তারপর চিকিৎসা…।
মজনু হাসপাতালের বারান্দায় শুয়ে শুয়ে কাতরাচ্ছে,মা-বাবা পাশে বসে বসে কাঁদছে।ডাক্তার নার্স কেউ ফিরে ও তাকাচ্ছেনা।এভাবে কেটে গেলে সারাদিন।পরদিন সকাল বেলা মজনু মারা গেল।মা-বাবা চিৎকার করে কেঁদে উঠল।নার্স ছুটে এসে বলল,
আপনারা কাঁদছেন কেনো,কি হয়েছে?
কেঁদে কেঁদে মনোরা বেগম বলল,
আমার ছেলে বিনা চিকিৎসায় মারা গেল।হায় আল্লাহ এসব মানুষরুপী অমানুষ ডাক্তারদের বিচার কর,বিচার কর…।
সে কাঁদে আর কাঁদে।তার কান্না যেন শেষ হচ্ছেনা।লাশ পড়ে রইল হাসপাতালের বারান্দায়।মহামারি করোনা রোগী তাই কেউ ফিরেও তাকাচ্ছে না।দুদিন পর বাবা-মা লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরল।এলাকায় জানাজানি হয়ে গেল মজনু মহামারি  করোনায় মারা গেছে।তাই তাকে কেউ দেখতে আসেনি।কবর খনন ও মজনুকে ধোয়ার কোন লোক খুঁজে পাওয়া গেল না।লোক আছে কিন্তু ভয়ে কেউ আসছেনা।কারণ মজনু মহামারি করোনা রোগী যদি  তাদেরকে ও ধরে।নিরুপায় হয়ে কবর খনন ও ধোয়ার কাজ মজনুর বাবা ও অন্য  ভাইয়েরা করল।তারপর জানাজা পড়ার জন্য হুজুরকে ডাকতে গেল।হুজুর বলল,
এটা মহামারি করোনা রোগী আমি জানাজা পড়াতে পারব না।তোমরা মাটি দিয়ে দাও।
কি আর করা মজিদ মিয়া অন্য ছেলেদের নিয়ে জানাজা ছাড়া কোন মতে ছেলেকে দাফন করলো।এভাবে “মহামারি   করোনায়” আক্রান্ত হয়ে মজনুর মতো একজন মেধাবী ছাত্র বিনা চিকিৎসায় মারা গেল।
ঃসমাপ্তঃ

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সাগরিকা প্রকাশনী ও বই বিপণি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত