1. adnanfahim069@gmail.com : Adnan Fahim : Adnan Fahim
  2. admin@banglarkota.com : banglarkota.com :
  3. kobitasongkolon178@gmail.com : Liton S.p : Liton S.p
  4. miraz55577@gmail.com : মোঃ মিরাজ হোসেন : মোঃ মিরাজ হোসেন
  5. ridoyahmednews@gmail.com : Ridoy Khan : Ridoy Khan
  6. irsajib098@gmail.com : Md sojib Hossain : Md sojib Hossain
  7. zahiruddin554@gmail.com : Md. Zahir Uddin : Md. Zahir Uddin
শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :

আপনার লেখা গল্প,কবিতা,উপন্যাস, ছড়া গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করতে যোগাযোগ করুন। সাগরিকা প্রকাশনী ০১৭৩১৫৬৪১৬৪৷ কিছু সহজ শর্তে আমরা আপনার পান্ডুলিপি প্রকাশের দায়িত্ব নিচ্ছি।

আমি মধ্যবৃত্ত পরিবারের সন্তান -সামাউন আলী-দৈনিক বাংলার কথা অনলাইন।

রিপোর্টার মোঃ মিরাজ হোসেন।
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৮ মার্চ, ২০২১
  • ১৫২ বার পড়া হয়েছে

আমি মধ্যবৃত্ত পরিবারের সন্তান
সামাউন আলী

মধ্যবিত্ত বলতে আমরা জানি, মধ্যবিত্ত একটি শব্দমাত্র। কিন্তু এই ছোট্ট একটি শব্দটি এতটাই অর্থবহুল যার অর্থ একটা অভিধানের ভিতর প্রকাশ করা সম্ভব নয়।ছোট করে বলতে গেলে মধ্যবিত্ত বলতে এমন একটা জীবনকে বোঝায় যেখানে স্বাদ আছে কিন্তু সাধ্য থাকে না। যে জীবনের সহ্য ক্ষমতা অনেক। গাড়িতে চড়ে কোথাও গেলে ছাত্র অর্ধেক ভাড়া দেয় কখনো কখনো পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে চলে যাই ক্লান্তিহীনভাবে, যেন সে সময় আমার কেটে যায় রুপকথার কাহিনী মত করে। কারন আমি মধ্যবিত্তের সন্তান, তবুও আমি গর্বিত যে আমি মধ্যবিত্ত।

আমাদের টাকা -পয়সা নেই উড়ানোর মতো।আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পকেট ভর্তি টাকা নেই,তবে মাথা ভর্তি টেনশন নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হয় আমাদের সব সময়।আমাদের টাকা কড়ি না থাকলেও আছে নিজের পরিবারের একটু হাসি দেখার মত ক্ষমতা। তাদের আছে পকেটে হাজার হাজার টাকা রেখে রাস্তার পাশে দোকানে বসে সিগারেটের ধোঁয়া উড়ানোর মত সাহস। তাদের আছে পকেটে দুই টাকার নোট নিয়ে সাধারন একটি পোশাক পরে কয়েক কিলোমিটার রাস্তা হাঁটার সাহস। তাদের গাঁয়ে তিনশ টাকার শার্ট বেশ মানিয়ে যায়। আবার সেই শার্ট দুই বছর একাধারে ব্যবহার যায়।

মধ্যবিত্ত পরিবার, এরা গরীব না ধনী? এই শ্রেণীর লোকেরা পৃথিবীতে আসে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার জন্য। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারে মানুষ স্বপ্ন দেখি না অথচ স্বপ্ন দেখতে ভয় পাই!এর কারন হলো স্বপ্ন ভাঙ্গার কষ্ট খুবই মারাত্মক আমাদের জীবনটা হলো অনেক কষ্টের, তাই আমরা খুব অল্পতেই ভয় পাই । আমরা ইচ্ছা করলেই কোন কিছু করতে পারি না।আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে পা ফেলতে হয় চিন্তা ভাবনা করে ! আমরা চাইলেও আর দশ জনের মত জীবনটা কাটাতে পারি না। কারণ ছোটবেলা থেকেই আমাদের ভাগ্য ঠিক করা থাকে,ভবিষ্যতে পড়া-লেখা করে আমাদের কিছু একটা করতে হবে। এরপর আমাদের সংসারের হাল ধরতে হবে।
মধ্যবিত্তদের একটা গুণ আছে সেটি হচ্ছে নিজেদের কষ্টগুলোকে চাপিয়ে রাখা।এরা লেখাপড়াতেও মধ্যবিত্ত। কষ্ট করে প্রাইভেট না পড়ে,টিউশনি করে স্কুল-কলেজের গন্ডি পার করলেও ঠেকে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মধ্যবিত্তদের জীবনের কাহিনী গুলো নিয়ে মহাকাব্য লিখতে বসলে কতগুলো মহাকাব্য লেখা যাবে তার অন্ত নাই।
আমাদের টাকা দেয় বাড়ি থেকে গুনে গুনে। আমাদের বাবা মায়ের ইচ্ছা থাকে বেশি দিবে কিন্তুু উপায় থাকে না।এই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা সকালে বাড়ি থেকে বের হলে কোথায় ও নাস্তা করেনা।কারন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে কিছু টাকা খরচ করতেই হয়।
বছরের শুরুতে বন্ধুরা সবাই মিলে যখন পরিকল্পনা করি ভ্রমণ করতে যাব,পরিকল্পনা শেষে যখন বাড়িতে টাকা চাই তখন বাবা বলে ভ্রমণে যাস নে। ভ্রমণের গাড়িতে শুধু দূর্ঘটনা ঘটে, বাবার এই কথার মাধ্যমে আমি বুঝতে পারি ব্যাপারটা। বুঝতে পারি বাবা দূর্ঘটনাটা বলতে অর্থসংকটের কথা বোঝাচ্ছেন।
পরে বাবার মন খারাপের কথা ভেবে আমি বাবাকে বলি বাবা আমিও ভেবে দেখলাম ভ্রমণের গাড়িতেই বেশি দূর্ঘটনা ঘটে তাই ভাবছি যাব না। সন্তানের এতোটা সহজে বাবার কথাটা বুঝে ফেলার ব্যাপারটা বাবাও উপলব্ধি করতে পারে কিন্তু কোন উপায় থাকে না কিছু করার।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমদিন থেকেই বাবা- মা দিন গোনে আর কতদিন পর তার সন্তান চাকরি করবে, একটা বছর যেতেই বলে, ” তুইতো আর তিন বছর পর চাকরি করবি” স্বপ্ন দেখে বাবা- মা আমার সন্তান এটা হবে, আমার সন্তান কি চাকরি করবে সেটাও ঠিক করে দেয় বাবা- মা।মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা বাবা মায়ের স্বপ্নটাকেই নিজের স্বপ্ন মনে করে জীবন যুদ্ধে ঝাঁপ দেয়।
পৃথিবীতে দুই শ্রেণীর মানুষ থাকা উচিত। একটা উচ্চবিত্ত অন্যটা নিন্মবিত্ত। মধ্যবিত্ত নামে কোন কিছু থাকা অনুচিত। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানের আত্মসম্মান আর স্বপ্ন দুইটাই খুব বেশি থাকে। সে জন্মের সময়েই একগাদা স্বপ্ন সাথে করে নিয়ে জন্মায়। সে স্বপ্ন দেখতে দেখতে বড় হয় এবং একপর্যায়ে সে বুঝতে পারে জীবনটা স্বপ্ন নয়, জীবনটা বাস্তব। সে সব সময় সুখ খোঁজে, জীবনের মানে খুঁজে বেড়ানো তার স্বভাব ।
সে অল্পতে সন্তুষ্ট হতে পারে না আবার অল্পতেই অসন্তুষ্টুও থাকতে পারে না।সে সবার কাছে ভালোবাসা খোঁজে কিন্তুু,এটা তার কাছে অপরাধ। উচ্চবিলাসী হওয়া তার জন্য গুনাহের পর্যায়ে পড়ে। তার আবেগ অত্যাধিক বেশি থাকে । কিন্তু সে খুব ছোট থাকতেই আবেগকে গলা টিপে খুন করতে শিখে ফেলে। মধ্যবিত্ত পরিবারের এই আবেগ প্রবন ,স্বপ্ন বিলাসী সন্তানদের কেউ বুঝতে চায় না। তাকেই সবকিছু সামলিয়েই চলতে হয়।
এত কিছু পরেও মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানটি একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলে আমি সুখেই আছি।বলবো না কেন যে সুখে আছি? সুখ জিনিসটা কি তাতো তাদের উপলব্ধিও হয়নি কোনদিন। মধ্যবিত্ত পরিবারের একটা ছেলে যখন দেখে প্রাইভেটকার রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে,সে তখন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে যে তার যখন টাকা হবে সে ও এইরকম কার কিনবে? তাতে কার পাশে বসে সে ড্রাইভিং করবে! রাস্তায় দাঁড়িয়ে সে মুহূর্ত স্বপ্নেই হারিয়ে যায়।
স্বপ্নের ঘোর যখন ভাঙে,তখন মনে পড়ে এখনও অনেক পথ হাটতে হবে,ক্লাসরুম এখনও অনেক দূরে। আবার যখন মাথার উপর দিয়ে বিমান চলে যায় তখন সে স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে পাইলট হবে আর তার বাবা- মাকে তাতে চড়িয়ে ঘোড়াবে।স্বপ্ন ভাঙতেই দেখে বাবা- মা তাঁর সামনে নানা জায়গায় সেলাই করা কাপড় পড়ে দাঁড়িয়ে আছে। তখন মনের ভিতর হু-হু করে কেঁদে ওঠে।
ছেলেমেয়েদের থেকে বেশি স্বপ্নবিভোর থাকে মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবা- মা। তারা স্বপ্ন দেখে তাদের ছেলে অনেক বড় হবে।সমূদ্র তীরে তাদের একটা বাড়ি করে দেবে, সেখানে বসে তারা সমূদ্রের ঢেউ উপভোগ করবে! স্বপ্ন ভাঙতেই মা দেখে সবজি কাটতে গিয়ে হাত কেটে রক্ত বের হচ্ছে। এটাই হলো মধ্যবিত্ত পরিবার। আমি এরকম পরিবারের ই ছেলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সাগরিকা প্রকাশনী ও বই বিপণি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত