1. adnanfahim069@gmail.com : Adnan Fahim : Adnan Fahim
  2. admin@banglarkota.com : banglarkota.com :
  3. kobitasongkolon178@gmail.com : Liton S.p : Liton S.p
  4. miraz55577@gmail.com : মোঃ মিরাজ হোসেন : মোঃ মিরাজ হোসেন
  5. ridoyahmednews@gmail.com : Ridoy Khan : Ridoy Khan
  6. irsajib098@gmail.com : Md sojib Hossain : Md sojib Hossain
  7. zahiruddin554@gmail.com : Md. Zahir Uddin : Md. Zahir Uddin
মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :

আপনার লেখা গল্প,কবিতা,উপন্যাস, ছড়া গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করতে যোগাযোগ করুন। সাগরিকা প্রকাশনী ০১৭৩১৫৬৪১৬৪৷ কিছু সহজ শর্তে আমরা আপনার পান্ডুলিপি প্রকাশের দায়িত্ব নিচ্ছি।

মায়া দি_ লিটন রায়।দৈনিক বাংলার কথা অনলাইন।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ, ২০২১
  • ৮৩ বার পড়া হয়েছে

মায়া দি_
লিটন রায়।

একবুক সুখের আশা নিয়ে মায়াদি আমাদের গায়ে আসেছিল। সুখের আশাটা এমন ছিল যে_পয়সাকড়িতে না, ধনসম্পদে না! শুধু জীবন সঙ্গীর দেওয়া ছোটো ছোটো খুশি আর ভালোবাসা নিয়ে বেচে থাকার। পূর্বের হাসি খুশির মজার মজার ফোন আলাপনে নিশাচর হয়ে যেত দুজনে।কত প্রতিশ্রুতি! কত আশা! কত বাসনার আলাপন করে রাতজাগা হতো তাদের। ঘোর আমাবস্যার রাত ছিলো পূর্ণিমার জ্যোৎস্নাময় রাতের মতো! তাইতো সেদিন বুঝতে পারেনি_ বাস্তবতা কী? ছুটে এসেছিল মিষ্টি মিষ্টি কথার সুরে অজানা ঠিকানায়। সেটা ছিল আবছা আলোয় অনিশ্চিত কিন্তু প্রেমের প্রদীপে ছিল অশেষ আশার আলো।
যাইহোক সেদিন একদিকে ছিল বিষণ্ণতা আর একদিকে ছিল না পাওয়ার যাতনা। অর্থাৎ যৌতুক না পাওয়া। মানে মায়াদি ভালোবেসে হৃদয়ের ঘরে এসেছে। কিন্তু সেই দাবি পুরণের মানুষ যে, সেতো সেই ঘরে মেয়েকে দিতে নারাজ। তাই কিছু উপায় না পেয়ে বিয়ের কাজ সুসম্পন্ন করতে হলো বর পক্ষকেই। অর্থাৎ হৃদয়ের বাবা ছেলের বউকে সসন্মানের সাথে ঘরে তুললো। এই দিকে মেয়ের বাবা সব কিছু শুনলেন, যে মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। কিন্তু তিনি হৃদয়কে কিছুতেই মেয়ের জামাই মানছেন না। এর পেছনে অবশ্য একটা চেলেঞ্জের বিষয় আছে। কারন হলো যখন মায়া-হৃদয়ের প্রেম তখন হৃদয় হবু শশুর কে চেলেঞ্জ করেছে যে তার মেয়েকে বিয়ে করে বউ করবে।আর শশুর বলছিল তিনি কিছুতেই মেয়েকে দিবেন না তার হাতে। এই হলো দুয়ের মান-অভিমান।

একদিন দুদিন বেশ ভালোভাবে কাঁটছে। বাড়িতে নতুন বউ সকলের মনে ঘোর অন্ধকারের মাঝে সহানুভূতির প্রদীপ টিপটিপ করছে। হৃদয় হয়ে গেল কঠিন যে ছিলো কি-না সুকোমল,নমনীয়, অপুর্ব রূপের বালক। সে আজ ভোর ৫টায় মাঠে, ক্ষেতখামারে হালচাষ করে। লাঙল হাতে অবিশ্রান্তভাবে ভূমি কর্ষণ করে।তামাকে, মরিচে,বেগুনে লাঙলটানে। এভাবেই তার শুরু হয় অক্লান্ত পরিশ্রম। তবু যেন তার বিশ্রাম নেওয়া বঞ্চনীয় নয়।সে দোষী! দোষ করেছে, এখন খেটেখাওয়া তার শাস্তি। কিন্তু দোষ? দোষ কি সে একাই করছে? না সেতো একাই করেনি করছে মায়াও তারও শাস্তিভোগ করা আবশ্যক। সেও এখন ঘরের কাজের পাশাপাশি বাহিরের কাজে যাওয়া শুরু করছে। কিন্তু লোকে কী বলবে সে ভেবে আর কাম নাই। বিয়ে যেহেতু করছে কাজকাম করেই খেতে হবে। তারপর আবার শুন্যহাতে এসেছে। তাইতো বিয়ের তিন দিনের মাথায় ঘর ছেড়ে মাঠে। মাঠে মানিয়ে নিতে মায়াদির কষ্ট হয়। কিন্তু কাজ করতে তার আলসেমি নেই। বরং শশুর মহাশয়ের চেয়ে যে বউমা বেশি কাজ করে এতে সকলে বউয়ের প্রশংসাই করে। আবার আবসোসও করে,কষ্টও হয় গায়ের লোকের। এই ভেবে যে মানুষের একমাত্র আদরের মেয়ে এখন তার কী নাহাল অবস্থা। কাজ ছাড়া যে ভাত নাই।
শশুর-শাশুড়ির কটুকথাও শুনতে হয় যেমন শশুর বলে_ এই আশা করেন না যে বইসা বইসা খাবেন। তোমার বাবা হামাক টাকাপয়সা দিয়া পাঠায় নাই, কাম করি খাবার নাগবে। কাজে কিছু ভুল করলে শাশুড়ি বলে_ কী শিখেছে বাপের বাড়িত প্রেম-প্রীতি? কামকাজ কোনোকান শিখে নাই। হৃদয় ও মায়ার জীবন যেন ভুলেভরা আর শাস্তি স্বরূপ পরিবার থেকে লাঞ্ছনা অবহেলা আর কটুকথা প্রায় শুনতে হয়। মাঝেমধ্যে বাবা বলে_ আমি আর তোদের ঝামলা টানতে পারবোনা, বেগোল খা তুই আর তোর বউ। কিন্তু ছেলে এতখনে বুঝে গেছে বিয়া কী জিনিস। তাই বেগোল খাওয়া নিয়ে ছেলে কিছুই বলতে পারে না। এভাবেই এক দের বছর হয়ে গেল।

আমি আর বাবা বিছোন তুলছি দোগোজ করবো। বিছোন তুলা শেষশেষ এমন সময় মামাদি ও জবা এলো বিছোন তুলতে আমাদের পাশেই ওদের বিছোন। জবা মায়ার ননদ। বিছোন তুলছে, হয়তো নতুন। এর আগে এইরকম কাজ কখনো করেনি তাই স্বভাবতই কাজ ফাবার নয়।
শশুর এসেই বলছে_ কী বাহে? বিছোন গুলাও তুলির না পান। অথচ তিনি নিজেও একটা গুজি তুললেন না। কিছুক্ষণ থেকে চলে গেলেন। এদিকে জবা বলছে নিজেতো কাজকাম করে না আর মানুষের ভুল ধরে। দুজনে কথা বলছে অনেক বিষয়ে। তাদের কথা শুনে বাবা বললেন _কী আর কই বাহে _ তোমার শশুর মধ্যাসুখত পরছে। যেমন তোমারলাক কামত লাগে দিছে সাথে নিজেও করলেতো কামকাজ গুলা আগায়।কিন্তু তা আর কই? লুঙ্গীঢুলি বেড়াতে ওর ভালোই লাগে। মায়াদি হঠাৎ এমন ভাবে কথা বলতে শুরু যে যেন অনেক দিন কারো সাথে কথা বলেনি। আজ কথা বলার একজনকে পেয়েছে তাকে আর কোনো মতেই ছাড়তে নেই। কথা বলছে হেসেহেসে নানান মজার ভঙ্গীতে। অথচ কথা গুলো মনের ভিতর থেকে আগ্নেয়গিরির ফুলকির মতো ভেসে আসছে।
কথা বলছে শশুর বাড়ির ভাব স্বভাব নিয়ে।কেমন তাদের আচার-আচারণ। কিন্তু সরাসরি না বলে বলছে বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে। একটা উদাহরণ বলায় যায় বুলবুলবাবু নাকি কাজকাম করে না। গোসল, খাওয়াদাওয়া ঠিকঠাক করে না। প্রচণ্ড রোদে দুতিনটি শার্ট পরে থাকে, পায়ে থাকে জোতা যেন সাহেব মানুষ। অথচ গা থেকে প্রচণ্ড গন্ধ বেরোয়। মানুষের মুখেমুখে কথা বলে বেরুই। বাড়িতে শিয়াল ঢুকে কুকুর বেড়য়!

একসময় শাশুড়ি চলে এলেন কাজ করতে।কিছুক্ষণ পর শশুরো এলো। কথায় কথায় শশুর বললো_ হামার লা কি করিল? ওমুকের বেটা লেখাপড়াও করিল হ মটরগাড়ির ম্যাকারিও শিখিল। আমিও বললাম যে কাকু মানুষের প্রাপ্তি দেখেন কেনো? ধৈর্য ও সাহস থাকলে একদিন আপনার সন্তানও কিছু করবে। শাশুড়ি বলতে লাগলো হামার ছাওয়া প্রেম করিবে না ভালো কিছু শিখিবে। আমি আবার কইলাম প্রেম করলেই জীবন শেষ হয়না। বরঞ্চ কোনো একসময় ভালো কিছু হয়। কাকু আমায় বললো_ হারে বাউ তুই বই পড়ি কী করবু? তোর বাব কি তোক টাকা দিবার পাবে? বাবা বললো _না হামার আর এত টাকা আছে? পড়েছে পড়ুক ইন্টারটা পাশ করুক, তারপর একটা ছোটোখাটো পথ করুক।আমিও সবাইকে খুশি করার জন্যে বললাম হ্যা তারপর বাবাকে আর কোনো কাজকাম করির দিম না। বাড়িতে একটা খামার দিম গরু দেখবে আর থাকবে। দাদা,ঝগড়া মারামারি করবেন না? হঠাৎ হেসেহেসে মায়াদি বলছে। হেসেহেসে বললে কী হবে এর তাৎপর্য আমি ঠিকই বুঝছি। হাসির মাঝেও যে বিস্তর দুঃখ কষ্ট লুকিয়ে থাকে তা মায়াদির কথায় ফুটে উঠে।কারো মুখে তাকিয়ে বুঝা যায়না। আমিও হেসে উত্তর দিলাম _ঝগড়া সেটাতো কমোন বেপার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সাগরিকা প্রকাশনী ও বই বিপণি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত