1. adnanfahim069@gmail.com : Adnan Fahim : Adnan Fahim
  2. admin@banglarkota.com : banglarkota.com :
  3. kobitasongkolon178@gmail.com : Liton S.p : Liton S.p
  4. miraz55577@gmail.com : মোঃ মিরাজ হোসেন : মোঃ মিরাজ হোসেন
  5. ridoyahmednews@gmail.com : Ridoy Khan : Ridoy Khan
  6. irsajib098@gmail.com : Md sojib Hossain : Md sojib Hossain
  7. zahiruddin554@gmail.com : Md. Zahir Uddin : Md. Zahir Uddin
শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :

আপনার লেখা গল্প,কবিতা,উপন্যাস, ছড়া গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করতে যোগাযোগ করুন। সাগরিকা প্রকাশনী ০১৭৩১৫৬৪১৬৪৷ কিছু সহজ শর্তে আমরা আপনার পান্ডুলিপি প্রকাশের দায়িত্ব নিচ্ছি।

গল্পঃ কাব্যের মেঘ লেখিকাঃ- আফরিন আক্তার।বাংলার কথা অনলাইন।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১
  • ৮৫ বার পড়া হয়েছে

আফরিন বিনতে আলম

 

“বেশ কিছুদিন যাবৎ শরীর টা একেবারেই ভালো যাচ্ছিলো না। তাই ডাক্তারের কাছে গেলাম। আমার যে কি রোগ হয়েছে ডাক্তার নিজেও সে সম্পর্কে অবগত নয়। বেশ সূক্ষ্ম ভাবে আমাকে পর্যবেক্ষণ করলেন ডাক্তার সাহেব। তারপর কতগুলো টেস্ট করাতে দিলেন।
সেই রিপোর্ট গুলো নিয়ে গতমাসেই ডাক্তারের কাছে গেছিলাম। ডাক্তারের হাতে রিপোর্ট দেওয়া মাত্রই ডাক্তারের ফর্সা মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেলো। তাৎক্ষণিক বোধগম্য হলো না কেন ডাক্তারের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
কিছুক্ষণ পর ওনি আমাকে জানালেন, আমার ব্লাড ক্যান্সার! হয়তো খুব বেশি হলে এই পৃথিবীর বুকে আমার স্থায়িত্ব আর এক মাস!

এতো সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে আমার মতো অল্পবয়সী এক তরুণী কে চলে যেতে হবে, এটা ভেবেই ডাক্তারের মুখ টা ফ্যাকাশে হয়ে গেছিলো। অবশ্যও হবে নাই বা কেন! অকাল মৃত্যু কে চায়? তাছাড়া ডাক্তারের তীব্র ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাধ্য নেই আমাকে বাঁচানোর! কারণ, ক্যান্সারের ট্রিটমেন্ট এখনও পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি যে!

আমাকে এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে, কিংবা আমি বাঁচতে পারবো না, অকালে চলে যাবো, এটা ভেবে আমার একটুও খারাপ লাগছে না। কারণ, অকাল মৃত্যু বলে আদৌ কিছু হয় না। মহান আল্লাহ তায়ালা যার আয়ূ যতোদিন রেখেছে, সে ঠিক ততোদিনই বাঁচবে। একমুহূর্ত আগে বা পরে যাওয়ার ক্ষমতা কারও নেই।
আমার কষ্ট হচ্ছে শুধু আমার মা বাবার জন্য! আমি ক্যান্সারের রোগী, বড়জোর এক মাস বাঁচবো, এই কথা টা জানার পর তাদের কি অবস্থা হবে? নিজেদের কে সামলাবে কি করে? তাদের অবস্থা তো পাগলপ্রায় হয়ে যাবে! বড্ড ভালোবাসে আমাকে।
হে আল্লাহ, তুমি আমার মা বাবাকে ধৈর্য দান করো, হেফাজতে রেখো আল্লাহ, তাদের কে সন্তান হারানোর কষ্ট সইবার তৌফিক দিয়ো আল্লাহ।
মা বাবাকে কোনো ভাবে জানতে দেওয়া যাবে না যে আমার ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে, হঠাৎ না বলে চলে যাবো! তাদের কষ্ট টা আমাকে আর দেখতে হবে না!

মা বাবাকে বলিনি আমার ক্যান্সার হয়েছে, শুধু বলেছি, খাওয়া দাওয়া অনিয়মের কারণে একটু সমস্যা হয়েছে৷ ডাক্তার ওষুধ দিয়েছে, বলেছে কিছুদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। মা তো বলেই বসলো, ” মেঘ, তোকে কতো করে বলি ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করবি, কথাই শুনিস না, এবার হলো তো?”
কিছু বললাম না, মুচকি হাসলাম। অথচ সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিলো এক সমুদ্র অশ্রু!

আমার সময় ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে। হয়তো অল্পদিনের মধ্যেই চলে যাবো এই পৃথিবী ছেড়ে। তবে হ্যাঁ, যে কটা দিন আছি মা বাবা কে সময় দেওয়ার চেষ্টা করছি। হুটহাট করে জড়িয়ে ধরি বাবাকে, কান্না টা লুকাতে পারি না। বাবা কারণ জানতে চাইলে বলি, কিছু না, এমনি ভালো লাগতেছে না। আমার আবার একজন ওনি আছে, মনের মানুষ যাকে বলে, সেটা বাবা মা দুজনেই জানে। তাই আমি কাঁদলে তারা ভেবে বসে নিশ্চয়ই ওনার সাথে ঝগড়া করেছি, তাই কাঁদছি! অবশ্য এমন টা ভাবার যথেষ্ট কারণ আছে, আমার আর কাব্যের তো সপ্তাহে পাঁচদিনই ঝগড়া হয়!

বাবা মা জানেনা আমি তাদের কে ছেড়ে অচিরেই চলে যাবো এ পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে! ডাক্তার বলেছিলো অপারেশনের কথা, সেক্ষেত্রে ৯৯% সম্ভাবনা বাঁচবো না,১% সম্ভাবনা বাঁচার। কাটাছেঁড়া তে চিরকালই আমার ভয় হয়, তাছাড়া মৃত্যু যেখানে নিশ্চিত, আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে, সেখানে কাটাছেঁড়া করে কি লাভ?
তাই অপারেশন করিনি।
কাব্যের সাথে কথা হয় না অনেকদিন।

ঝগড়া হয়েছিলো, বেশ গুরুতর ঝগড়া। সেও কথা বলেনি, আমিও আর যোগাযোগের চেষ্টা করিনি। অবশ্য আগ বাড়িয়ে যোগাযোগ টা সবসময় আমিই করি, এবারও হয়তো ব্যাতিক্রম হতো না যদি না নিশ্চিত মৃত্যুর সংবাদ টা পেতাম! তাকে ছেড়ে তো চলেই যাবো, তাই কি লাভ মায়া বাড়িয়ে? থাকুক না সে তার মতো, ভাবুক না আমাকে স্বার্থপর!
অভিমানে দূরে সরে থাকুক সে, সে সুযোগে আমি একেবারে তার নাগালের বাইরে চলে যাবো!

শরীরের অবনতি ঘটছে দিনদিন। মা বলেছিলো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে, কিন্তু আমি যাইনি, কারণ আমি চাইনি তারা সব টা জেনে যাক, আ র ভেঙে পড়ুক!
বাবাকে একটা পাঞ্জাবি গিফট করেছি,আর মাকে শাড়ি, যেন এগুলো পরলে আমার কথা মনে পড়ে! মা বাবাকে কে জড়িয়ে ধরে কেঁদে আসলাম অনেকক্ষণ। মা তো এবার বলেই দিলো,

অনেক হয়েছে! আর না! কাব্য কে ধরে এনে তোর সাথে বিয়ে দিয়ে দিবো! তারপর ওর বাসায় গিয়ে যতো ইচ্ছে কাঁদিস। আমার এখানে ওসব কান্না কাটি চলবে না। তোরা তো জানিসই একজন আরেকজনকে ছাড়া একমুহূর্তও থাকতে পারবি না, তাহলে কেন যে ঝগড়া করিস, বুঝি না বাপু! কালই কাব্যের মা কে আসতে বলবো!

অন্যসময় মা এই কথা বললে হয়তো খুশিতে নাচতাম। কিন্তু আজকে আমি অনুভূতি শুন্য! তাই মায়ের দিকে তাকিয়ে বৃথা একটু হাসি দেওয়ার চেষ্টা করলাম! মা কি বুঝলো কে জানে!

গভীর রাত! সবাই বিভোর ঘুমে মগ্ন। আমার দুচোখে ঘুম নেই। চোখ বেয়ে অঝরে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু! কোনো বাঁধ মানছে না!
হয়তো দুই একদিনের মধ্যেই আমাকে চলে যেতে হবে। খুব কষ্ট হচ্ছে! অনেক কিছু দেখা বাকি ছিলো, কিন্তু সৃষ্টিকর্তা হয়তো ভাগ্যে তা লিখেনি!

কাব্যের কথা খুব মনে পড়ছে আজ। কতো স্বপ্ন ছিলো দুজনের, রাত জেগে জোস্না দেখবো,একসাথে বৃষ্টিতে ভিজবো, আরো কতো কি! অপূর্ণই রয়ে গেলো সেসব স্বপ্ন!
আচ্ছা, ও কি আমাকে ভুলে গেছে? একবারও কি মনে পড়ে না আমার কথা? ইশ, মরার আগে যদি ওকে একবার দেখতে পারতাম!

ঘড়িতে সময় রাত দুইটার মতো। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার! বেলকুনিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হয়তো দুইদিন পরেই শায়িত হবো চিরনিদ্রায়! আমার জীবনে নেমে আসবে এই অমাবস্যার মতো ঘুটঘুটে অন্ধকার! তলিয়ে যাবো অন্ধকারের অতল গহ্বরে!

হঠাৎই ফোনের রিংটোন বেজে ওঠলো। স্ক্রিনের ওপর নম্বর টা দেখে প্যালপিটিশন বেড়ে গেলো!

কাব্য ফোন করেছে! খুশি হতে পারছি না। কারণ ওর ফোন রিসিভ করার সাহস পাচ্ছিলাম না। ও যদি জিজ্ঞেস করে এতোদিন ওর খোঁজ নেইনি কেন, কি জবাব দিবো? সত্যি টা বলার সাহস নেই যে! আমি ওকে জানাতে চাই না মেঘ হারিয়ে যেতে চলেছে কাব্যের জীবন থেকে!

বেশ কয়েকবার রিং হওয়ার পর ফোনটা রিসিভ করলাম। অন্তত ওর গলার আওয়াজ তো শুনতে পাবো! ওটাই আমার কাছে পরম প্রাপ্তি!

ফোন রিসিভ করার পরে কাব্য কোনো অভিযোগ করেনি, কোনো প্রশ্নও করেনি। শুধু বিনয়ের সাথে বলেছিলো পরদিন যেন ওর সাথে দেখা করি।

ওর মুখোমুখি হওয়ার ইচ্ছে আমার ছিলো না। যদি ধরা পড়ে যাই? সেই ভয়ে! কিন্তু বাচ্চাদের মতো করে ওর অনুরোধ করা টা আমি ফেলতে পারিনি। শেষ ইচ্ছে টা হয়তো পূরণ হবে, মৃত্যুর আগে ওকে দেখতে পারবো!

অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও সকাল সকাল নীল রঙের শাড়ি পড়লাম। আমি শাড়ি পরতে পারিনা, মায়ের সাহায্য নিয়েই পরেছি। এরপর গাঢ় কাজল, হালকা লিপস্টিক, মুঠোভর্তি চূড়ি পড়লাম। প্রথমে চুল গুলো খোঁপায় আটকে ছিলাম, কিন্তু পরক্ষণে মনে পড়লো খোলা চুলই তার বেশি প্রিয়। কারণ সে বলেছিলো,
যে উড়তে চায়, তাকে আটকে না রেখে উড়ার সুযোগ দাও!

রেললাইনের ধারে গিয়ে বসলাম। এই জায়গা টা দুজনেরই প্রিয়। একটু পরেই কাব্য আসলো, আরে বাহ! সে আজ নীল পাঞ্জাবি পড়ে এসেছে! বেশ সুন্দর লাগছে তো আমার হিরো কে! কিন্তু আফসোস! আজকের পর তাকে আর নিজের বলে দাবি করার জন্য আমি থাকবো না! আমাকে শাড়ি পড়ে আসতে দেখে সে যেন আকাশ থেকে পরেছে! কারণ, বহুবার আমাকে শাড়ি পড়ে আসতে বলেছিলো, পড়িনি আমি৷ আজ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! তার হাতে এক গুচ্ছ গোলাপ!
আশ্চর্য! ছেলেটা আজ আমার পছন্দ গুলো কে এতো গুরুত্ব দিচ্ছে কেন? এতো ভালো করে কথাই বা বলছে কেন? বুঝতে পেরে গেলো নাকি আমি ওপারের যাত্রী?

দিনটা মনের মতো ছিলো! ওর এতো ভালোবাসা দেখে ইচ্ছে করছিলো আরও হাজার বছর বেঁচে থাকি! কিন্তু সেটা আর হবার নয়! আমার সময় ফুরিয়েছে! এবার আমাকে যেতে হবে! এ মানুষ টার আমার রক্ত দেখতে ভালো লাগে না, অথচ কি নিয়তি! আমার ব্লাড ক্যান্সারে সমস্ত শরীরের রক্ত দূষিত হয়ে গেছে মানুষ টা তা জানতেও পারলো না!

খুব করে কাঁদলাম কাব্য কে জড়িয়ে ধরে! ও ভেবেছে অভিমানে কাঁদছি! হাটু গেড়ে কান ধরে বললো, আমাকে কোনোদিনও ছেড়ে যাবে না, আর কোনোদিনও ঝগড়া করবে না, এবারের মতো যেন ওকে মাফ করে দেই। আর বিকেলেই ওর মাকে পাঠাবে আমাদের বাসায়। আমাদের পাঁচ বছরের সম্পর্ক হয়তো খুব তাড়াতাড়ি সুন্দর একটা পরিণতি পেতো, অথচ তার আগেই আমাকে চলে যেতে হচ্ছে!

কাব্যের সাথে সংসার করা হলো না। একসাথে জোস্নাবিলাস করা হলো না! তবে হ্যাঁ, চলে আসার সময় ওর ওই বাঁকা ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা এক চিলতে বাঁকা হাসি ছিলো আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া!
বড্ড বেশি ভালোবাসি ওকে! যেখানেই থাকি, যতোদূরেই থাকি, ওরে দিবো না আমারে ভুলিতে!
ভালো থেকো প্রিয়। বিদায়।
হয়তো ওপারে দেখা হলেও হতে পারে! অপেক্ষায় থাকবো!”

মেঘ নেই, সেদিন রাতেই মারা গেছে!

কাব্যের হাতে এখনও মেঘের ডায়েরি টা। কথাগুলো মেঘের ডায়েরি তে লেখা ছিলো! কাব্যের চোখে মোটা ফ্রেমের চশমার ফাঁক দিয়ে ওর গাল বেয়ে অঝর ধারায় গড়িয়ে পড়ছে প্রিয়তমাকে হারানোর অশ্রু!

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সাগরিকা প্রকাশনী ও বই বিপণি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত