1. adnanfahim069@gmail.com : Adnan Fahim : Adnan Fahim
  2. admin@banglarkota.com : banglarkota.com :
  3. kobitasongkolon178@gmail.com : Liton S.p : Liton S.p
  4. miraz55577@gmail.com : মোঃ মিরাজ হোসেন : মোঃ মিরাজ হোসেন
  5. ridoyahmednews@gmail.com : Ridoy Khan : Ridoy Khan
  6. irsajib098@gmail.com : Md sojib Hossain : Md sojib Hossain
  7. zahiruddin554@gmail.com : Md. Zahir Uddin : Md. Zahir Uddin
মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :

আপনার লেখা গল্প,কবিতা,উপন্যাস, ছড়া গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করতে যোগাযোগ করুন। সাগরিকা প্রকাশনী ০১৭৩১৫৬৪১৬৪৷ কিছু সহজ শর্তে আমরা আপনার পান্ডুলিপি প্রকাশের দায়িত্ব নিচ্ছি।

গল্প——) অবলম্বন মোঃ রুহুল আমিন।দৈনিক বাংলার কথা অনলাইন।

রিপোর্টার মোঃ মিরাজ হোসেন।
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে

গল্প——)

অবলম্বন
মোঃ রুহুল আমিন
———————————

হঠাৎ করে বদলিটা শাহেদকে মুটামুটি ভাবিয়ে তোলে। যদিও তার জন্য এটি আনন্দের বিষয় হয়ে উঠতে পারত। কারন দীর্ঘ দু’বছর পর নিজ বাসভূমে বদলি। চাকরির প্রথম পোস্টিং ছিল নিতান্ত এক অজ পাড়াগাঁয়ে পাহাড়ী উপত্যকায়। অবশ্য তার পাহাড়কে ভালোই লাগত। অবসরে পাহাড়ি পথে হেঁটে হেঁটে প্রকৃতির সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার জন্য।
সংসার জীবনে সে একা। পিতা মাতা গত হয়েছে। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে বছর দুয়েক হলো চাকরিতে যোগদান করেছে সে। এক সময় সে সৃষ্টি কর্তার কাছে প্রার্থনা করত তার যেন দূরে কোথাও পাহাড়ি অঞ্চলে চাকরি হয়। স্বপ্নটা শুরুতেই পূর্ণ হবে সে ভাবেনি।

টেবিলের উপর বদলির অর্ডারটি খাকি কালারের একটি খামের মধ্যে পড়ে আছে। রাত একটা বাজে। সেদিকে তার ভ্রুক্ষেপ মাত্র নেই। চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বুঁজে আছে ঘন্টা অবধি। ভাবনার জগতে হারিয়ে যাচ্ছে সে বারবার। মনে পড়ছে কতনা স্মৃতি।
দু’বছর আগে যেখান থেকে সে একরকম কয়েদীর মতো মুক্তি চেয়েছিল সেখানেই আবার ফিরতে হবে। নিয়তির এই চক্রে আবর্তন বারবার নিজেকে আন্দোলিত করছে। ঐ শহরের আলো বাতাস, অক্সিজেন তার জন্য বিষাক্ত হয়ে গিয়েছিল। সেখানে আবার ফেরা?

সেদিন ছিল বসন্তের দ্বিতীয় দিন। নিলুফার পাঠানো হলুদ খামে একটি চিঠি। শুধু চিঠি নয়, সাথে ছিল সম্পর্ক শেষ করার এক নীল চিরকুট। ডিভোর্স লেটার।

—–চিঠিতে অল্প কথায় লেখা ছিল –
শাহেদ,
কেমন আছো জানতে চাইবো না। আমি জানি তুমি খুব ভালো একজন মানুষ। তোমাকে ছেড়ে গিয়ে অন্যের সংসার করবো এটা আমাকেও কষ্ট দিচ্ছে খুব। কিন্তু ডিভোর্স লেটারটা না পাঠিয়ে উপায় ছিলনা। পারো যদি গুছিয়ে নিও তোমার লাইফটা। ভালো থেকো।
ইতি
নিলুফা

একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সে রাস্তায় বেরুলো। আজো আকাশে একদশীর চাঁদ। আজকের জ্যোৎস্নাটা অনেকটা নীল মনে হচ্ছে। কিছুক্ষণ হেঁটে একটা ল্যাম্প পোস্টের নিচে বসল শাহেদ। এই চেনা শহরের অলি গলি, রেস্তোরাঁ, পার্ক সবকিছুই এখন ঘুমাচ্ছে। মাথার উপর নীল চাঁদোয়া ও সে কেবল জেগে আছে। মাথাটা কেমন চিনচিন করছে। মনে পড়ছে তার সেই দিনের কিছু স্মৃতি যেদিন নিলুফা তার জীবনে এলো।

——এই যে শুনছেন, আপনাকে বলছি।
——-জি বলুন, শাহেদ চমকে উঠল।
——-আপনার আবৃত্তির গলা কিন্তু বেশ, আমাকে ধার দিবেন কিছুদিনের জন্য? নিলুফা এক শ্বাসে বলল কথাটা।
——-শাহেদ এবার বুঝতে পারল বিষয়টা। কলেজের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় সে গতকাল আবৃত্তি করেছিল।
একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল, ধার করা জিনিসে জীবনের ক্ষণিক চাহিদা মেটে কিন্তু জীবন চলে না। এর চেয়ে আপনার গলাটা মেরামত করার দায়িত্ব দিলে স্থায়ী সমাধান করে দিতে পারি।
এই বলে সে নিলুফার চোখের দিকে তাকালো। নিলুফার চোখে ও মুখে আনন্দের ছটা খেলে যাচ্ছে শাহেদ ঠাওর করতে পারল।
——–নিলুফা একটু কাছে সরে এসে খুব আহ্লাদী স্বরে বলে উঠল, এ-ও কি সম্ভব? ইশ মেরামত করে দিয়ে যদি আমাকে ধন্য করতেন!
——-ঠিক আছে কিছু শর্তে আমি করে দিতে পারি। আমার দেয়া সকল কাজ ঠিক মত চর্চা করতে হবে, চিৎকার চেচামেচি পরিহার করতে হবে, গলার যত্ন নিতে হবে।
——-যা হুকুম, নিলুফা হাসতে হাসতে বলল।
——–কোথায় থাকেন?কী করা হয়?
——–শাহেদ বলল-থাকি একটা ভাড়া বাসায়, পড়াশোনা শেষ হলো ছয়মাস হয়। একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে আছি দুমাস ধরে।

এর কয়েক মাস পর শাহেদ ও নিলুফার বিয়ে হয়। শুরুতে অমত থাকলেও নিলুফা তার পরিবারকে রাজী করায়। বিলাসী জীবন যাপনে অভ্যস্থ নিলুফার কিছু দিন যেতে না যেতেই কেমন খারাপ লাগতে শুরু হলো । কিছু বলতেও পারছে না, পছন্দের বিয়ে। তাছাড়া শাহেদ ছেলে হিসেবে যথেষ্ট মার্জিত ও সুশিক্ষিত। প্রতিনিয়ত সে সরকারি পেশায় ঢুকার চেষ্টা অব্যাহত রাখছে। কিন্তু তা আর হয়ে উঠছে না। জীবনের এই বাস্তবতার সামনে শাহেদের নিজেকে খুব অসহায় লাগে। সে-দিন নিলুফা হঠাৎ বাবার বাসায় যাবে বলে শাহেদকে। শাহেদ বলল, ঠিক আছে যাও। ফিরবে কবে? সে জিজ্ঞেস করল। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে নিলুফা ব্যাগ হাতে নিয়ে বের হতে হতে বলল, ফোন করে জানাবো। দ্বিতীয় দিন নিলুফা ডিভোর্স লেটার পাঠায় শাহেদকে।
শাহেদ বুঝতে পারেনা, কী তার অপরাধ। সংসারের টানাপোড়েন তার নিত্য সঙ্গী। এসব দেখেই তো নিলুফা তাকে ভালোবেসেছিল, ঘর বেঁধেছিল। নিলুফা পার্থিব সুখের জন্য এত মরিয়া হয়ে এমন ভাবে শাহেদকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে সে ভাবেনি। পরদিন এ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার আসে শাহেদের। একটা সরকারি চাকরি পায় সে।

এই পাহাড়ি অঞ্চলে দুটি বছর সব ভুলে ভালোই ছিল সে। এখানে ছিলনা শহরের চাকচিক্যময়তা। ছিলনা বর্নিল আলোয় সজ্জিত রাজপথ। এখানে হৃদয় ছিল, ছিল মুক্ত বাতাস। ঝাপসা চোখে তাকিয়ে থাকে সে দেয়ালের দিকে। অশ্রু বিগলিত হয়ে ঢেউয়ের মত আছড়ে পড়ে চোখের সমুদ্রে। আপন মনে বিড় বিড় করে সে বলতে লাগল, সবাই অবলম্বন খোঁজে। এত দ্রুত ভালোবাসার রুপ পাল্টায়? তারও একটা অবলম্বন চাই। তাইতো সে পাহাড়কে ভালোবেসেছিল। এখন না হয় নদীকে ভালোবাসবে।

Photo credit by Rajib Ahasen

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সাগরিকা প্রকাশনী ও বই বিপণি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত