1. adnanfahim069@gmail.com : Adnan Fahim : Adnan Fahim
  2. admin@banglarkota.com : banglarkota.com :
  3. kobitasongkolon178@gmail.com : Liton S.p : Liton S.p
  4. miraz55577@gmail.com : মোঃ মিরাজ হোসেন : মোঃ মিরাজ হোসেন
  5. ridoyahmednews@gmail.com : Ridoy Khan : Ridoy Khan
  6. irsajib098@gmail.com : Md sojib Hossain : Md sojib Hossain
  7. zahiruddin554@gmail.com : Md. Zahir Uddin : Md. Zahir Uddin
শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :

আপনার লেখা গল্প,কবিতা,উপন্যাস, ছড়া গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করতে যোগাযোগ করুন। সাগরিকা প্রকাশনী ০১৭৩১৫৬৪১৬৪৷ কিছু সহজ শর্তে আমরা আপনার পান্ডুলিপি প্রকাশের দায়িত্ব নিচ্ছি।

থ্রিলার উপন্যাস:- PO(পোলোনিয়াম)-১ম। লেখক:-আবরার ফাহিম। দৈনিক বাংলার কথা অনলাইন।

রিপোর্টার মোঃ মিরাজ হোসেন।
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১০১ বার পড়া হয়েছে

থ্রিলার উপন্যাস:- PO(পোলোনিয়াম)-১ম।
লেখক:-আবরার ফাহিম।

১ম:-
চারিদিকে বৃষ্টির ঝুমঝুম আওয়াজ অন্ধকার ঘরটি আরো ভয়ঙ্কর হতে থাকল।ঘরের চারপাশটা তার কাছে একটুখানি উদ্ভাসিত হতে লাগলো।ঠিক কত সময় আগে ঘুমিয়েছিলেন বোধ করতে পারলেন না।আজকাল তার ঘুম তেমন হয় না বললেই চলে।স্লিপিং পিল না খেলে সারা রাত চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকতে হয়।রাত দশটা বাজতেই হাউজ-নার্স তাকে একটা স্লিপিং পিল দিয়ে গেলে চোখে একটা ঘোর ঘোর ভাব চলে আসে।
হঠাৎ পাশের ঘর থেকে খুবই পরিচিত একটা গন্ধ ভেসে আসছে।উনার ঘ্রাণ ক্ষমতা একটু বেশি।আর এই গন্ধটাই তার টাকা দিয়ে কেনা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।গন্ধটা খুব ক্ষীণ হলেও নাকে খুব পীরা দিচ্ছে।তার এই গন্ধ অদ্ভুত আর বিশ্রী লাগছে।তবে ইদানীং তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়গুলো আরো সচল হয়ে উঠেছে।আজকাল তিনি নিঃশদ্বের মধ্যেও অনেক বর্ণনাহীন কিছু শদ্ব উপলদ্ধী করতে পারেন,এমন অনেক কথা বুঝতে পারেন যা ব্যাখ্যা করা হয়তো অসম্ভব।চারপাশের সবকিছু এখন তার কাছে নতুন কোন উম্মাদনার রূপে উপস্থাপিত হয়।কোন কিছু ঘটার আগেই তিনি তা টের পেয়ে যান।ঠিক এই রকম একটা বিশ্রী ধরনের একটা অনুভুতি তার হচ্ছে।

ক্ষণিকের জন্য তার মনে হয় তিনি হয়তো সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগছেন।সিজোফ্রেনিয়া হলো সন্দেহজনক মন -মস্তিষ্ক যা সবকিছুতেই সন্দেহবাদী।কিংবা এগুলো সব তার অবচেতন মনের কল্পনা।হ্যাঁ এটা সত্য যে মানুষ যখন চির সত্যের দিকে এগিয়ে যায়, ততই তার অবচেতন মন নতুন কোন কল্পনাকে হাজির করে মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করার সম্পূর্ণ প্রয়াস করে।তার বেলায় হয়ত এটাই ঘটেছে।
তবে তিনি এসব মূহূর্তের কোন উপসংহার খুজে পান না।শুধু তার সূচনাটাই পড়ে থাকে।

পাশের ঘর থেকে একটা শদ্ব শোনা যাচ্ছে।একটা মেয়েলি কন্ঠ শোনা যাচ্ছে ,খুব পরিচিত কাছের একজনের কন্ঠ।তবে পুরুষ কন্ঠটা তিনি ঠাউর করতে পারছেন না।তাদের আনন্দে উল্লাসিত কথাবার্তা তার পছন্দ হচ্ছে না,এই কথাবার্তা তাকে ঈর্ষান্বিত করে তুলছে।তবে অনেক দিন পর,তিনি ঠাউর পেলেন,তার শরীরের উত্থান ঘটেছে।এইরকম অবস – নিথর দেহে এতো জটিল আর ভিন্ন ধর্মের উত্থান তার চিন্তা শক্তিকে নাড়িয়ে দিয়ে তাকে বিস্মিত করে দিল।কারণ এই রকম বয়সে এই ধরণের উম্মাদনার মতো উত্থান খুব কম লোকেই হয় তাও আবার প্যারালাইজড অবস্থায়।
মানুষ খুবই পাগলাটে বিচক্ষণ প্রাণী।মস্তিষ্ক থেকে তার দেহ কোন দিক থেকে কম বিচক্ষণ নয়।
বিগত দুবছর এই রকম পাগলাটে পরিস্ফুটিত বিচক্ষণতা তিনি অনুভব করতে পারেন নি।সেটাও কিনা এই রকম এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সময়ে।
মেয়েলি কন্ঠটা এখন বেশ তুঙ্গে উঠেছে বলে তার মনে হচ্ছে।পুরুষটা একটু বেশিই সচেতন,নিজের সকল আবেগ দাবিয়ে রেখে কার্যসিদ্ধি করছে।হ্যাঁ তবে চোরারা কিন্তু একটু বেশিই সচেতন থাকতে পছন্দ করে,কথাটা তার আড়ষ্ট দুটো ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে প্রায় বের হয়েই যাচ্ছিলো কিন্তু উচ্চারিত হলো না।
একটু পর আর কোন ধরণের শদ্ব শোনা যাচ্ছে না।তিনি বিস্মিত হয়ে ভাবতে লাগলেন তারা এখন কি করতে পারে।আর এই রকম কাজ করার পর তিনিই বা কি করতেন?একটা দামি ব্যান্ডের হুসকি খুলে এক প্যাক মেরে দিতেন সাথে একটা দামি সিগারেট ধরাতেন।নয়তো সোজা বাথরুমে চলে যেতেন ফ্রেশ হওয়ার জন্য।আর ফাহমিদা?এই নামটা মনে আসতেই সাথে সাথে আরো কিছু মুখ তার চোখের কোণে ভাসতে থাকল।কোন ভাবেই সেই মুখগুলোকে মনের অন্তরাল থেকে মুছতে পারছেন না।মুখগুলো অসম্ভব ভাবে তাকে যন্ত্রণা দিচ্ছিল।
এখন তিনি আর আগের মতো তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো নড়াচড়া করতে পারছে না।মনে হচ্ছে তার সকল অনৈচ্ছিক পেশিগুলো ধীরেসুস্থে প্যারালাইজড হয়ে যাচ্ছে।কিন্তু আজকাল তার কাছে এসব কিছু খুবই ভয়ঙ্কর মনে হয়।মস্তিষ্কের উপর মানুষের নিয়ন্ত্রন যে কতো সাধারণ, কতটা নগন্য তা হয়তো এইরকম পরিস্থিতিতে না পরলে বোঝতেই পারতেন না।
তিনি প্রায়ই তার ছোটবেলার স্মৃতি গুলো নিজের চোখের সামনে ভাসাতে চান কিন্তু স্মৃতি গুলো এতোটাই ঝাপসা হয়ে গেছে যে,সেটা আরো বেশি বেদনাদায়ক মনে হচ্ছে তার কাছে। কিন্তু কোনরকম প্রচেষ্টা ছাড়াই তিক্ত আর বিশ্রী সব স্মৃতি গুলো অযাচিত ভাবে মনে পড়ছে।
আরেকটা বিশ্রী শব্দ তার চিন্তায় হঠাৎ ব্যাঘাত ঘটালো সাইরেন বাজানো হচ্ছে, সাথে বাঁশি ।কিন্তু কে হতে পারে…হ্যাঁ…কিন্তু এতো রাতে পুলিশ…. হঠাৎ আবার বাড়ির সামনে…কেন??

মেয়েলি আর পুরুষ কন্ঠের মৃদুতা শোনা যাচ্ছে।তবে এসবের পরে কথা বলার কোন মানে হয় না।তিনি নিজেই এই রকম কাজ করার পর কোন কথা না বলে বিছানায় শুয়ে থাকতেন,না হয় এক প্যাক মেরে ঘুমিয়ে পড়তেন।

ওদের কন্ঠের মৃদুতা এখনো চলছে।তারা চাপা গলায় কি নিয়ে যেন তুমুলভাবে তর্ক করছে।আস্তে আস্তে তার গায়ের পশম গুলো কাটা দিয়ে উঠতে লাগল।শরীরে এক প্রকার যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতি বয়ে যাচ্ছে।কয়েকদিন ধরে এই ব্যাপার গুলো নিয়ে তার মনে কিছুটা ভয়ের তৈরি হয়েছে।প্রায়ই তার মনে হয় তাকে শেষ করতে পারলেই হয়তো কারো কার্যসিদ্ধি হবে।তার এই সন্দেহ কিন্তু সম্পূণ অমূলক নয়।
ঘ্যাচ করে একটা শব্দ অনুভুত করলেন তিনি।তার ইন্দ্রিয় গুলে আবার সচল হয়ে উঠলো।তিনি অনুভূত করতে পারলেন তার ঘরে এক উটকো লোকের আগমন ঘটেছে। অন্য কেউ হলে এটাকে সাধারণ শদ্ব ভেবে পাত্তা দিতো না।কিন্তু তিনি আজকাল যা প্যারালাল জিনিস অনুভূত করতে পারছেন তারপর এটাকে সাধারণ শব্দ ভেবে নেওয়া তার মস্তিষ্ককের সাজছে না।
মানুষের নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে এখন।তবে সেটা খুবই মৃদু।একেবারে কাছ থেকে!তিনি তার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখার চেষ্টা করলেন কিন্তু পারলেন না।এটা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

পুরো শরীরের মধ্যে ডান হাতটাই একটু সচল আছে।বাকি পুরো শরীরটাই অবস।তবে এর কারণে তার রাজনৈতিক কাজে কোন বাধা আসি নি।বরং কাজগুলো আরো দ্রুত ও সহজ হয়ে গেছে তার কাছে।আগে সশরীরে তিনি সংসদে যেতেন এখন ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে উপস্থিত হন এটা তার জন্য একটা আলাদা সুবিধা।তাছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাকে তেমন কাজ করতে হয় না।
আর তাছাড়া তার সকল ইচ্ছেই তো পূরণ হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার দরুন একশো পাচঁটার মতো দেশে ঘুরেছেন তিনি।গত পনের বছরে প্রায় পাচঁশো কোটি টাকা জমা করেছেন একাউন্টে।নির্ঘাত তিনি একটু সত বলে,নাহলে তার জায়গায় ফারুক খান থাকলে দেশকে ভেজে খেত।

চলবে.

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সাগরিকা প্রকাশনী ও বই বিপণি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত