1. adnanfahim069@gmail.com : Adnan Fahim : Adnan Fahim
  2. admin@banglarkota.com : banglarkota.com :
  3. miraz55577@gmail.com : মোঃ মিরাজ হোসেন : মোঃ মিরাজ হোসেন
  4. ridoyahmednews@gmail.com : Ridoy Khan : Ridoy Khan
  5. zahiruddin554@gmail.com : Md. Zahir Uddin : Md. Zahir Uddin
শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ১১:০৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :

আপনার লেখা গল্প,কবিতা,উপন্যাস, ছড়া গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করতে যোগাযোগ করুন। সাগরিকা প্রকাশনী ০১৭৩১৫৬৪১৬৪৷ কিছু সহজ শর্তে আমরা আপনার পান্ডুলিপি প্রকাশের দায়িত্ব নিচ্ছি। ঘরে বসে যে কোন বই কিনতে বা বিক্রি করতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।বই বিপণী বিডি।মোবাইলঃ ০১৭৩১৫৬৪১৬৪, www.boibiponibd.com

জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টালে কিছু সংখ্যক সংবাদকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। যোগাযোগ ০১৭৩১৫৬৪১৬৪ অথবা সরাসরি মোহাম্মদপুর মোড় বাসস্ট্যান্ড,ছুটিপুর রোড,ঝিকরগাছা,যশোর।

গল্প : অনুশোচনা লেখকঃ কবির কাঞ্চন।বাংলার কথা অনলাইন।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

গল্প :
অনুশোচনা 
কবির কাঞ্চন

– স্যার, আপনি কোথায় আছেন?
– আমি ক্লাসে?
– কোন ক্লাসে?
– সপ্তম শ্রেণিতে।
– তাড়াতাড়ি নিচতলায় চলে আসুন।
– কি হয়েছে? কোন সমস্যা?
– হ্যাঁ, আসলে বলবো।
– আচ্ছা, আমি আসছি।
এই কথা বলে মোবাইলের সংযোগ কেটে দিয়ে শিক্ষার্থীদের চুপচাপ বসে বসে পড়তে দিয়ে নিচতলায় নেমে আসেন মিলন স্যার।
মিলন স্যার এই স্কুলের একজন নামকরা শিক্ষক।  শিক্ষার্থী, অভিভাবক এমনকি স্কুলপ্রশাসনের লোকজনের কাছে খুব প্রিয় একটি নাম। তিনি ছেলেমেয়েদের আদর করে পড়ান। ভালো ছাত্রদের নিবিড় তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি দুর্বলদের দিকেও বিশেষ মনোযোগ দিয়ে থাকেন। বহু দুর্বল শিক্ষার্থী তার সংস্পর্শে এসে মেধাবী শিক্ষার্থীতে পরিণত হয়েছে।
মাত্র কয়েক বছরের  মধ্যে শিক্ষার্থীরা তার কাছে প্রাইভেট পড়ার জন্য লাইন ধরেছে।
নিচতলায় এসেই মুকিত হাসান স্যারের সাথে দেখা হয় তার। মুকিত স্যার আগ্রহ নিয়ে  জিজ্ঞেস করলেন,
– স্যার, আজকে ক্লাস সিক্সের কোন ছাত্রকে মেরেছেন কী?
মিলন স্যার একটু ভেবে নিয়ে বললেন,
– হ্যাঁ স্যার, আজকে প্রথম ঘন্টায় ক্লাস নেয়ার সময় দুটো ছেলে ক্লাসে খুবই ডিস্টার্ব করেছিল। ওদেরকে আস্তে করে দুটো বেত দিয়েছি। কেন কি হয়েছে?
– আরে ভাই, পরিস্থিতি খারাপের দিকে চলে যাচ্ছে। ছেলের বাবা এলাকার রাজনীতিবিদ। উনি খুব রেগে গেছেন।
– কার ওপর?
– আপনার ওপর। উনি নাকি প্রিন্সপাল স্যারের কাছে আসবেন। আমি তাকে বারণ করেছি। কিন্তু আমার কথাও মানতে চাইছে না। এখন কী যে করি! ভেবে কূল পাচ্ছি না।
মিলন স্যার একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন,
– সমস্যা নেই, স্যার। উনাকে আসতে বলেন। যা বলার আমি প্রিন্সিপাল স্যারের সামনেই বলবো। আমি কোন অন্যায় কাজ করিনি। শিক্ষার্থীকে মানুষ করতে গেলে একটু একটু শাসন করতে হয়।
– সেটা তো আমিও বলি। কিন্তু এ বিষয়ে দেশের যে আইন রয়েছে তা শিক্ষার্থীদের শাস্তি দানে আমাদের সবার হাতপা বেঁধে দিয়েছে। আর এই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে কতিপয় প্রভাবশালী মানুষ। মিলন স্যার, আমি বলি কি ছেলেটার বাবার সাথে আপনি নিজে একটু কথা বলে দেখেন। যদি মীমাংসা হয়ে যায় তো মঙ্গল। দেশের পরিস্থিতি ভালো নয়। কখন কি হয়ে যায়!
এই কথা বলতে বলতে মোবাইল ফোনটা মিলন স্যারের কানে দিয়ে বললেন,
– এই নিন। ছেলেটার বাবার সাথে কথা বলুন।
মিলন স্যার নিজেকে সামলে নিয়ে নম্র গলায় বললেন,
– আসসালামু আলাইকুম। আমি মিলন স্যার বলছি। কি হয়েছে, ভাই?
ওপার থেকে রাগত স্বরে বলে ওঠলো,
– স্যার, আপনাদের কাছে ছেলেকে পাঠিয়েছি লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করারর জন্য।  আপনারা যেখানে ওদের মানুষ করার কথা, সেখানে ওদের মেরে লাশ করছেন। এ কেমন আচরণ!
– প্লিজ, আগে আমার কথাটা একটু মনোযোগ দিয়ে  শুনুন। আপনার ছেলে ও আরেকটা ছেলে আজ ক্লাসে খুব দুষ্টুমি করছিল। আমি বেশ কয়েকবার তাদের সতর্কও করেছিলাম। এরপরও ওরা দুষ্টুমি করতে থাকে। শেষে আমি ক্লাস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ওদের আস্তে করে দুটো বেত দিয়েছি। এখন আপনি বলুন এ কি আমার অপরাধ ছিল?
– কি বলেন? ছেলে তো বলল আপনি ওর ওদের মেরে  পিঠ ফাটিয়ে দিয়েছেন।
– আপনি কি ওর পিঠ একবারও দেখেছেন?
– সরি স্যার, আমি দেখিনি।
– শুনুন, আমি ওর পিঠে মারিনি। শুধু হাতে দুটো বেত দিয়েছি।
– স্যার, আমি খুব লজ্জিত। আপনার সাথে ওভাবে কথা বলা আমার একদম ঠিক হয়নি। তাছাড়া আপনার এক কলিগও আপনার বিরুদ্ধে আমাকে ক্ষেপিয়ে দিয়েছেন। উনি আমাকে বলেছেন, আপনি না সবসময় বাচ্চাদের নির্মমভাবে মারেন।
– কি বলেন! দয়া করে আপনি একটু আমার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখেন। আমি আমার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন আছি। যে আপনাকে আমার সম্পর্কে বলেছেন তিনি মিথ্যে বলেছেন। আপনি আমাকে ভুল বুঝবেন না, প্লিজ।
– আপনিও আমাকে মাফ করবেন, প্লিজ। এ বিষয়টা এখানেই শেষ হলে ভালো হয়।
– আচ্ছা ঠিক আছে। আপনি ভালো থাকবেন।
– আপনিও।
মোবাইলের সংযোগ কেটে দিয়ে মিলন স্যার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দিয়ে বললেন,
– এ কেমন কথা, স্যার? আমাদের কোন সহকর্মী নাকি উনাকে উস্কে দিয়েছেন।
– কারো নাম কি বলেছেন?
– না। আমি তা জানতেও চাইনি। ধন্যবাদ স্যার, আসি।
এই কথা বলে মিলন স্যার আবার ক্লাসের দিকে চলে গেলেন।
পরদিন সকাল দশটায় মুকিত স্যার আবার মিলন স্যারকে কাছে ডেকে বললেন,
– স্যার, পরিস্থিতি তো খুব খারাপের দিকে চলে যাচ্ছে।
– আবার কি হয়েছে?
– ছেলেটির দাদা এই এলাকার একজন প্রভাবশালী নেতা। তিনি কমিশনারের কাছে যেতে চেয়েছিলেন। মানববন্ধন কর্মসূচি করে আপনাকে বিপদে ফেলতে চেয়েছিলেন।  আমি উনাকে অনুরোধ করে এ যাত্রায় ঠেকিয়েছি। এখন শুনুন আজ সন্ধ্যায় আমরা উনার অফিসের দিকে গিয়ে চা নাস্তা খেয়ে আসবো। আর ছেলেটাকেও দেখে আসবো, কি বলেন?
– না স্যার, আমি যাবো না। আমার যা হবার হবে। ওরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলে করুক। কিন্তু শিক্ষক হয়ে আমি ছাত্রের কাছে কখনও সরি বলবো না। এ ক্ষেত্রে আমার চাকরি নিয়ে সমস্যা হলেও আমি সেখানে যাবো না।
– মাথা গরম করবেন না,স্যার। সন্ধ্যার সময় আমি আপনাকে কল দিলে বের হবেন।
মিলন স্যার মন খারাপ করে শিক্ষক মিলনায়তনের দিকে চলে গেলেন।

বিকাল চারটা বাজে। মিলন স্যার প্রাইভেটের শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। স্যারকে মন খারাপ দেখে সামির দাঁড়িয়ে বলল,
– স্যার, আজ কি আপনার মন খারাপ?
হঠাৎ সামিরের কথা মনে পড়ে যায় মিলন স্যারের। সামির তো মুকিত স্যার যে নেতার কথা বলেছেন তার সন্তান।  ও নিশ্চয় কিছু জানতে পারে।
এই কথা ভেবে তিনি সামিরকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
– তোমার বাবার কাছে আমার বিষয়ে কোন কিছু কি শুনেছো?
সামির গম্ভীর হয়ে বলল,
– সেদিন আমার গায়ে জ্বর থাকায় স্কুলে আসতে পারিনি। আমি আব্বার সাথে বসে বসে টিভিতে ক্রিকেট খেলা দেখছিলাম। হঠাৎ আব্বার নম্বরে একটা কল এলো। মোবাইলটা আমার হাতে থাকায় আমি তা রিসিভ করি। মুকিত স্যারের পরিচয় জেনে আমি তাড়াতাড়ি করে আব্বুর কাছে মোবাইলটা দিয়ে দিই। কিন্তু স্যার, একটা কথা শুনে আমি খুব অবাক হয়েছি। স্যার আপনার সম্পর্কে আব্বুকে বোঝাচ্ছিলেন। আপনি নাকি সবসময় ছেলেমেয়েদের মারেন। আপনার ব্যাপারে একটা পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। এ কথা আমি নিজ কানে শুনেছি। আর এই কথা শুনে আব্বু খুব রেগে গিয়েছিলেন।  কথা শেষ হলে আব্বু আপনার ব্যাপারে আমাকেও জিজ্ঞেস করেন।
আমি আব্বুকে সব খুলে বলি। তারপর আব্বু শান্ত হন। আর আমি যে আপনার কাছে প্রাইভেট পড়ি তা আব্বু আগে জানতেন না।
সামিরের কাছ থেকে সব শুনে মিলন স্যার পাশের চেয়ারে বসে সামনের টেবিলের ওপর মাথাটা রেখে চিন্তিত মনে ভাবতে লাগলেন।

এভাবে প্রায় মাসখানেক সময় অতিবাহিত হলো। একদিন মিলন স্যারের কাছে ছুটে আসেন তার কাছে প্রাইভেট পড়া ছাত্রী সিমলার বাবা। সিমলার বাবাকে উত্তেজিত অবস্থায় দেখে মিলন স্যার কোমল গলায় বললেন,
– কি হয়েছে, ভাই?
– দেখুন স্যার, আপনাদের স্কুলের মুকিত স্যার আমার মেয়েকে কিভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে। বেত দিয়ে মেরেছে। ঠিক আছে। কিন্তু এতোগুলো ছেলেমেয়েদের সামনে উনি হাতে মারলেন কেন? আমি সাংবাদিক সম্মেলন করবো। উনাকে আমি দেখে নেবো।
মিলন স্যার সিমলাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে খুবই ব্যথিত হন। এরপর সিমলার বাবাকে শান্ত হতে অনুরোধ করেন। কোনভাবেই তাকে মানানো যাচ্ছে না। শেষে তাকে বসতে দিয়ে বাইরে গিয়ে মুকিত স্যারকে ফোনে বিষয়টি খুলে বললেন। মুকিত স্যার খুব চিন্তিত হয়ে জবাবে বললেন,
– সত্যি আজ আমার মাথাটা খুব গরম হয়ে গিয়েছিল।  ওকে বেশিই মেরেছি। এখন কি করব ভেবে কূল পাচ্ছি না।
– সিমলা আমার কাছে প্রাইভেট পড়ে। সে সুবাদে তিনি আমার কাছে ছুটে এসেছেন। আমি দেখি উনাকে যেভাবে পারি ম্যানেজ করে নেবো। এ নিয়ে আপনি অস্থির হবেন না।
– প্লিজ স্যার। আমি কি একবার আপনার ওখানে আসবো?
– আশা করি আপনার আসা লাগবে না। আর লাগলে আমি কল দেবো। ভালো থাকবেন, স্যার।
– আপনিও ভালো থাকবেন, স্যার।
এরপর মিলন স্যার সিমলার বাবার কাছে ফিরে এসে তাকে শান্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেন।  এক পর্যায়ে সিমলার বাবার হাত ধরে অনুনয়ের সুরে বললেন,
– প্লিজ, দাদা আমার দিকে তাকিয়ে হলেও একটু শান্ত হোন। আমি জানি সন্তানের ব্যথায় এ মুহূর্তে আপনার কেমন লাগছে। কিন্তু এ কথাও তো সত্য যে, কোন শিক্ষক স্বার্থের বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মারেন না।
– আপনি ঠিক বলেছেন, স্যার। মেয়েকে ওভাবে দেখে আমি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলাম। আপনার কাছে না এলে তো বড় কিছু হতে পারতো।
– থাক। তবু আমি স্যারকে বিষয়টা বলবো।
– ঠিক আছে, স্যার।
এরপর মিলন স্যারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সিমলারা বাসার উদ্দেশ্যে চলে যায়।

পরদিন স্কুলে এসে মিলন স্যারের সাথে দেখা করে মুকিত স্যার। মুকিত স্যারকে চিন্তিত থাকতে দেখে মিলন স্যার মুখে মৃদু হাসি দিয়ে বললেন,
– স্যার, সমস্যার সমাধান হয়েছে। উনারা এ নিয়ে আর কোন কথা বলবেন না। তবে এখন থেকে আমাদের সবাইকে আরেকটু সাবধানে থেকে চাকরি করতে হবে।
মুকিত স্যার মিলন স্যারের মুখের দিকে লজ্জাভরা চোখে পরম কৃতজ্ঞতায় তাকিয়ে থাকেন।

পরিচিতি :
নাম : কবির কাঞ্চন
জন্ম : ১ জুন ১৯৮৫
কবি, গল্পকার, গীতিকার ও প্রাবন্ধিক
সহকারী শিক্ষক
বর্তমান ঠিকানা : বেপজা পাবলিক স্কুল ও কলেজ চট্টগ্রাম,  সিইপিজেড, ইপিজেড, চট্টগ্রাম।
স্থায়ী ঠিকানা :  আফাজিয়া বাজার, হাতিয়া, নোয়াখালী।
পেশা : শিক্ষক
প্রকাশিত গ্রন্থ : ৮ টি
২০০৯ (উপন্যাস- শেষচিঠি)
২০১৩ উপন্যাস- আলেয়ার আলো,
২০১৫ ছড়াগ্রন্থ- ফুলের বনে শিশুর হাসি,
২০১৬ ছোটগল্পের বই- স্বপ্নবিলাস,
২০১৭ ভৌতিক বই ‘ভুতের সাথে বন্ধুত্ব’
২০১৭ উপন্যাস- মায়াদ্বীপ
২০১৯ ছড়াগ্রন্থ – কবির কাঞ্চনের শতেক ছড়া
২০১৯ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ছোটগল্পের বই- বিজয়ের হাসি
পুরষ্কার : দাঁড়িকমা লেখালেখি স্মৃতি পুরস্কার ২০১৬

মুঠোফোন : 📞০১৬৭৩-৯০৩৫০৩

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সাগরিকা প্রকাশনী ও বই বিপণি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত