1. adnanfahim069@gmail.com : Adnan Fahim : Adnan Fahim
  2. admin@banglarkota.com : banglarkota.com :
  3. kobitasongkolon178@gmail.com : Liton S.p : Liton S.p
  4. miraz55577@gmail.com : মোঃ মিরাজ হোসেন : মোঃ মিরাজ হোসেন
  5. ridoyahmednews@gmail.com : Ridoy Khan : Ridoy Khan
  6. irsajib098@gmail.com : Md sojib Hossain : Md sojib Hossain
  7. zahiruddin554@gmail.com : Md. Zahir Uddin : Md. Zahir Uddin
শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ১১:২৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজঃ

আপনার লেখা গল্প,কবিতা,উপন্যাস, ছড়া গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করতে যোগাযোগ করুন। সাগরিকা প্রকাশনী ০১৭৩১৫৬৪১৬৪৷ কিছু সহজ শর্তে আমরা আপনার পান্ডুলিপি প্রকাশের দায়িত্ব নিচ্ছি।

শিক্ষিত কাঠবিড়াল।জহির টিয়া।বাংলার কথা অনলাইন।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ২০২ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষিত কাঠবিড়াল

জহির টিয়া

বনের মধ্যিখানে শতবর্ষী বিরাট একটা বটগাছ। সেখানে নানান জাতের পাখপাখালির কোলাহলে মুখরিত। সারাক্ষণ হৈ-হুল্লোড়ে মেতে থাকে বটগাছের পরিবেশ। কেউ যায় তো কেউ আসে। যাওয়া-আসার খেলা চলে চব্বিশ ঘন্টা। সেই বটগাছে বাস করত একটা শিক্ষিত কাঠবিড়ালি। তার প্রাথমিক জীবন কেটেছে গ্রামের এক শিক্ষিত পরিবারের সঙ্গে। সেখানেই তার লেখাপড়ার হাতেখড়ি। ওই বাড়ির ছোট মেয়ে রাত্রি তাকে অক্ষরজ্ঞান দিত। বেশ সুখেই ছিল সেখানে কাঠবিড়ালি।
কিন্তু হঠাৎ করে রাত্রিরা গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে যায়। রাত্রিকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে। যেদিন রাত্রিরা গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে যায়। সেদিন কাঠবিড়ালি তার এক আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল। দু’দিন পরে এসে দেখে, বাড়িটা খাঁ-খাঁ করছে। কাউকে দেখতে না পেয়ে দম বন্ধ হয়ে আসছিল কাঠবিড়ালির। মলিন মুখে এই বাড়ি ওই বাড়ি খোঁজাখুঁজি করল অনেক। কোথাও খুঁজে না পেয়ে কাঁদো কাঁদো রুপে বাড়ির সামনে বসে বিড়বিড় করে কী যেন বকছিল।
এমন সময় একটা চড়ুই এসে কাঠবিড়ালিকে বলল, ‘ হ্যালো কাঠবিড়ালি। তুমি কি রাত্রিদের খুঁজছো?
কাঠবিড়ালি জল ছলছল চোখে চেয়ে বলল, ‘ হ্যাঁ! কিন্তু কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না।’
তারপর চড়ুই, কাঠবিড়ালিকে সবকিছু খুলে বলল। সেই রাতেই রাত্রির ওপর অভিমান করে কাঠবিড়ালি বাড়ি হতে বেরিয়ে পড়ল। রাত্রিরও খুব কষ্ট হয়েছিল তার প্রিয়বন্ধু কাঠবিড়ালিকে ছেড়ে যেতে।

কাঠবিড়ালি এখন এই বটগাছের স্থায়ী বাসিন্দার। বটগাছের আশেপাশের বনে কিছু ফলফলাদির গাছ আছে। সেখান হতে ফলমূল সংগ্রহ করে খায়। কিছু পাখিও ভালোবেসে তাকে মাঝেমধ্যে এটা-ওটা খাবার দেয়। তাতেই তার আরামসে দিনগুলো চলে যায়। হঠাৎ একদিন তার মনে হলো, পাখিরা তো সবাই অশিক্ষিত! তাদেরকে অক্ষরজ্ঞান দিলে কেমন হয়! যেই ভাবনা সেই কাজ। আশেপাশের পাখিদের জানালো তার মনের কথা। সবাই জেনেশুনে রাজি হয় গেল। কাঠবিড়ালি সাফ জানিয়ে দিল পড়ার বিনিময়ে সে কিছুই নেবে না। কিন্তু তা কী হয়! সবাই যুক্তিপরামর্শ করে ঠিক করল- যাদের ছেলেমেয়ে কাঠবিড়ালির কাছে পড়তে আসবে, তারা সিরিয়ালি ধরে একদিন করে খাবার দেবে। যাতে বাইরে আর খাবার খুঁজতে না যেতে হয় তাকে। কিন্তু তাতেও কাঠবিড়ালি রাজি হচ্ছিল না। কিন্তু সবার জোরাজুরিতে রাজি হতে হলো। বলা যেতে পারে “শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য” প্রকল্প চালু হয়ে গেল। কাক, ময়না, শালিক, দোয়েল, চড়ুইসহ আরও অন্যান্য পাখিদের ছোটো ছোটো সোনামনিরা কাঠবিড়ালির স্কুলে পড়তে এলো। সবার মনে আনন্দ আর আনন্দ! কয়েক মাস যেতে না যেতে স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ শেখে নিয়েছে সবাই। কেউ কেউ আবার বানান করে করে পড়তেও পারছে। সবাই নিজের নিজের নামও লিখতে শেখে নিয়েছে। আরও কিছুদিন যেতে না যেতেই মা-বাবার নামসহ পূর্ণঠিকানাও লিখতে পারছে। দিনদিন চারিদিকে ছড়িয়ে যেতে লাগল কাঠবিড়ালির নামডাক। বাড়তে আছে শিক্ষার্থী সংখ্যাও। দিনদিন শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্কুলে ঘর বাড়ানোর তাগিদ পড়ে গেল। সবাই মিলে হাতেনাতে আরও কয়েকটি ঘর তৈরি করে দিলো। পড়াতে পড়াতে কাঠবিড়ালি শিক্ষা দেয়, কীভাবে আমরা প্রিয় মাতৃভাষা বাংলা পেলাম। আর কেনই বা মায়ের ভাষা আমাদের কাছে এতো মধুর।

হঠাৎ একদিন একটা বাজপাখি বাজখাঁই কণ্ঠে বাংলা ভাষা শিক্ষার প্রতিবাদ করল। পাখিদের বাসায় গিয়ে গিয়ে কাঠবিড়ালির নামে দূর্নাম করতে লাগল। সে বলে বেড়ায়, বাংলা ভাষা শিখে কী হবে? এটা আমাদের নিজস্ব ভাষা। এটা আবার শেখার কী আছে! আমি দেশ-বিদেশ ঘুরে ঘুরে কয়েক রকম ভাষা শিখে ফেলেছি। তারমধ্যে ইংরেজি ভাষাকে আন্তর্জাতিক ভাষা বলা হয়। এই ভাষা না জানলে বাইরের রাষ্ট্রে গিয়ে তোমরা বোকা বোনে যাবে তো। বাইরের রাষ্ট্রে গেলে তাদের সাথে ইংলিশে কথা বলতে হবে। তখন তোমরা কী করবে? তাই তোমাদের ছেলেমেয়েকে আমার স্কুলে ভর্তি করে দাও। আমিও স্কুল খুলিতেছি। দেশ-বিদেশের ভাষার শিক্ষা দেবো।
বাজখাঁই বাজপাখির কথায় অনেকের মন তুষারের মতো গলে গেল। কাঠবিড়ালির স্কুল হতে নিয়ে এসে বাজপাখির স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিল অনেকেই। এদিকে দিনদিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে লাগল কাঠবিড়ালির। সে চিন্তামগ্ন হয়ে ভাবতে লাগল। কীভাবে এই বাজপাখিকে তাড়ানো যায়। কিন্তু সে-তো বাজপাখিকে শক্তিতে পারবে না। কাঠবিড়ালি মনে মনে ভাবলো, কিছুদিন যাক। আমার বিশ্বাস আবার সবাই ফিরে আসবে। যখন ভিনদেশি ভাষা কোমলমতি শিশুরা বুঝতে পারবে না।

ঘরে বসে বই কিনুন 

http://www.boibiponibd.com

কয়েক সপ্তাহ যেতে না যেতেই শিশুরা তাদের মা-বাবাকে এসে নানান অভিযোগ দিতে লাগল। তাদের সবার বক্তব্য কাঠবিড়ালি স্যারের কাছে পড়তে ভালো লাগছিল। এই স্যার কি বলে না বলে বুঝতে পারিনা। ইংরেজি ভাষা, হিন্দি ভাষায় কিনা কি বলে। কেমন করে প্যাঁচ লাগানো লেখা লিখতে পারিনা। কাঠবিড়ালি স্যারের কাছে আমাদের আবার ভর্তি করে দাও সেখানেই পড়ব। না হলে আর স্কুলে যাব না। সবার মা-বাবা চিন্তায় পড়ে গেল। তারপর সবাই একত্রে বসে আবার ঠিক করল কাঠবিড়ালির কাছে পড়তে যাবে। আমাদের ছেলেমেয়েদের বিদেশে পাঠানোর দরকার নেই। তারা জন্মভূমিতেই থাকবে। কী দরকার বিদেশের কঠিন ভাষা চর্চা করা। কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবার কাঠবিড়ালির স্কুলে ভর্তি হয়ে গেল সব ছাত্র-ছাত্রী। মুখরিত হয়ে ওঠলো বিদ্যালয় প্রাঙ্গন। আনন্দের সাথে আবারও মায়ের ভাষা বাংলা চর্চা করতে লাগল শিশুরা। ফাঁকা হতে লাগল বাজপাখির স্কুল। তাই মনের দুঃখে এই বটগাছ ছেড়ে চলে গেল বাজপাখি। জয় হলো মায়ের ভাষা শিক্ষার। জয় হলো বাংলা ভাষার।

শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সাগরিকা প্রকাশনী ও বই বিপণি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত