1. adnanfahim069@gmail.com : Adnan Fahim : Adnan Fahim
  2. admin@banglarkota.com : banglarkota.com :
  3. kobitasongkolon178@gmail.com : Liton S.p : Liton S.p
  4. miraz55577@gmail.com : মোঃ মিরাজ হোসেন : মোঃ মিরাজ হোসেন
  5. ridoyahmednews@gmail.com : Ridoy Khan : Ridoy Khan
  6. irsajib098@gmail.com : Md sojib Hossain : Md sojib Hossain
  7. zahiruddin554@gmail.com : Md. Zahir Uddin : Md. Zahir Uddin
শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ১০:২৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজঃ

আপনার লেখা গল্প,কবিতা,উপন্যাস, ছড়া গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করতে যোগাযোগ করুন। সাগরিকা প্রকাশনী ০১৭৩১৫৬৪১৬৪৷ কিছু সহজ শর্তে আমরা আপনার পান্ডুলিপি প্রকাশের দায়িত্ব নিচ্ছি।

অণুগল্প : সাধনার ফল লেখকঃ কবির কাঞ্চন।বাংলার কথা অনলাইন।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১১৯ বার পড়া হয়েছে

অণুগল্প :

সাধনার ফল
কবির কাঞ্চন

মুহিত সবেমাত্র ইংরেজি বিষয়ে অনার্স শেষ করে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছে। এখন তার দু’চোখে কতো কী স্বপ্ন! সোনার হরিণ বলে বিবেচিত একটা ভালো চাকরি তাকে যে পেতেই হবে। মুহিত জানে, তার বাবা-মা ভাই-বোন সবাই তার দিকে চেয়ে আছে। তাদের অভাবের সংসারে তার একটা ভালো চাকরি সব অভাব দূর করে দিতে পারে।

মুহিত খুব আত্মবিশ্বাসী ছেলে। এতোদিন প্রাইভেট টিউশনি করে নিজের পড়াশুনাসহ যাবতীয় খরচ সামলিয়ে বাড়ির জন্যও কিছু পাঠিয়েছে। সারাদিন বিশ্ববিদ্যালয় আর নিজের প্রাইভেট টিউশনি নিয়ে সে ব্যস্ত সময় পার করতো। রাত নয়টার পর আর কোথাও বের হতো না। রাত একটা পর্যন্ত নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পড়াতেই ব্যস্ত থাকতো সে। এসএসসি ও এইচএসসি’তে এ+ পাওয়া মুহিত অনার্সে এসে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। তার মনে দৃঢ় বিশ্বাস আছে। চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিলেই তার চাকরি হয়ে যাবে। বন্ধুমহলে এ নিয়ে প্রায় তার বনিবনা হয় না। বন্ধুরা যেখানে চরম হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে সেখানে সে আগামীর স্বপ্নে বিভোর।

আজ জীবনের প্রথম চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছে সে। দেশের স্বনামধন্য সংস্থায় সহকারী পরিচালক (জেনারেল) পদে। প্রায় লক্ষাধিক ক্যান্ডিডেটের সাথে লড়বে সে। যথাসময়ে পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলো। প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে খুব মনোযোগ সহকারে পড়ে উত্তর দেয়া শুরু করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তার সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দেয়া শেষ হয়। হল থেকে বেরুবার সময় তার মনে হতে থাকে, চাকরি লাভের এই প্রথম খেলায় সে নিশ্চিত জিতে যাবে। আগে বিনা তদবিরে চাকরিটা হোক। তারপর ঐসব বন্ধুকে বড় গলায় বলতে পারবো- “বলেছি না, মেধা থাকলে মামুখালু লাগে না। এমনিতেই চাকরি হয়।” এরপর ফিরতি টিকিটে চট্টগ্রামে ফিরে আসে সে। প্রায় এক মাস পর লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলো। মুহিত সবগুলো রোল দেখে নিলো। কিন্তু কোথাও তার রোল নেই। প্রথমবারের মতো কিছুটা হতাশ হলো সে। ভাবতে খুব কষ্ট হচ্ছিল তার। এতো ভালো পরীক্ষা দিয়েও প্রাথমিক বাছাইয়ে টিকতে পারলো না সে। তার মনের মধ্যে কিঞ্চিৎ পরাজয়ের যন্ত্রণা ভর করলো। বন্ধুদের খোঁচা মারা কথাগুলো চোখের সামনে বারবার ধরা দিচ্ছিল।
এদিকে মাস্টার্সেও প্রথম বিভাগে পাস করলো সে। দিনেদিনে মুহিতের বাবার আয়-রোজগারেও ভাটা পড়েছে। সংসারের হাল মুহিতের ওপর ছেড়ে দিয়ে মসজিদের দিকে ঝুঁকতে উদগ্রীব তিনি। একমাত্র ছেলের ভালো একটি চাকরির জন্য দিন-রাত খোদার কাছে মোনাজাত করেন। মুহিতও বাবা-মার চোখের দিকে তাকিয়ে মনের ভাষা বোঝে।
মুহিত প্রতি শুক্রবারে সকালের নাস্তা না করে ছুটে যায় সিইপিজেড মোড়ে। চাকরির খবর পত্রিকা কিনে আবার বাসায় ফেরে। তারপর পুরোপত্রিকার খবর থেকে বাছাই করে চাকরির আবেদনের জন্য লিখে রাখে। এভাবে চলতে থাকে চাকরির আবেদন ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ। কিন্তু বারবার ব্যর্থ হচ্ছে সে।

এরিমধ্যে বিসিএস-এ টেকার জন্য ওরাকল ভর্তি কোচিং-এ ভর্তি হয়েছে সে। দিন-রাত পড়াশুনার মধ্যে পড়ে আছে। লক্ষ্য তার একটাই। যেকোন মূল্যে একটা ভালো সরকারি চাকরি পাওয়া।

দেখতে দেখতে তার বয়সও প্রায় ত্রিশ পেরিয়ে যাচ্ছে। আর মাত্র তিন মাসের মতো সময় বাকী আছে। এরপর আর সরকারি কোন চাকরির জন্য আবেদনই করতে পারবে না সে। চলমান ইন্টারভিউগুলোর শেষ ভরসা একটাই। শেষবার অংশ নেয়া বিসিএস ভাইভার ফলাফলের দিকে পথ চেয়ে আছে তার মন। খুব ভালো ভাইভা হয়েছিল। সবগুলো প্রশ্নের উত্তর নিজের মনের মতো করে দিতে পেরেছে।

ঘরে বসে বই কিনুন অনলাইনে

প্রশ্নকর্তাদের চোখেমুখেও সে সন্তুষ্টির ছাপ লক্ষ্য করেছিল। কোনরূপ দুর্নীতির ঘ্রাণ পায়নি। তবু যতোই দিন যাচ্ছে ততোই চিন্তার তিলকরেখা তার ভাবনার আকাশে যোগ হচ্ছে। কারণ একটাই। তার মতে, আজকালকার দিনে দেশের মানুষ চাকরি মানে ভাবে সচ্ছতার অনুপস্থিতিতে অযোগ্য লোকের নিয়োগ প্রাপ্তি।
সামনে আরো ছয়টা ইন্টারভিউ বাকী আছে। যা করবার এরমধ্যেই করতে হবে। ইদানিং নাওয়া- খাওয়াও ঠিকমতো হচ্ছে না। সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখনও পড়াশুনা নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটায় সে। মুহিতের মনে সান্ত্বনা হয়ে ধরা দেয় বিসিএস-এর কোচিং ক্লাসে মুরাদ স্যারের উৎসাহমূলক উপদেশগুলো। মুহিত আবার ভাবে। সত্যি তো- কোন মানুষ মনেপ্রাণে কোন কাজ করলে তাতে সফলতা আসবেই। সফলতা কারো বেলায় সহজেই ধরা দেয় আবার কারোর অন্তিম মুহূর্তে। কখনও হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দিতে নেই। হতাশ হয়ে যারা সাময়িক থামে কিন্তু পরাজয় বরণ করে না। বরং দ্বিগুণ মনোবল নিয়ে আবার কাজে নেমে পড়তে জানে। জীবনযুদ্ধে তারাই জয়ী হয়।

এরপর একে একে সবগুলো ইন্টারভিউতে অংশ নেয় সে। পূর্বের তুলনায় অনেক ভাল পরীক্ষা হয়েছে। সবগুলোতেই টিকার সম্ভাবনা রয়েছে তার। তবু তার মন জুড়ে রয়েছে না পাওয়ার আক্ষেপ। মাস্টার্স পাস করার পর বাবা-মার সাথে দিল খুলে একবারও কথা হয়নি তার।
আজ তার মনটা ভীষণ খারাপ। ত্রিশের ঘর পেরুতে গুণেগুণে আর দশটা দিন বাকী। বিষন্নচিত্তে বাবা-মার রুমে প্রবেশ করলো মুহিত। মাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলল, “মা, আমার মনে হয় ভাল একটা চাকরি হবে না। অনেক তো চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছুই তো হলো না।” মা-ছেলের এমন কান্নায় বাবার হৃদয়েও রক্তক্ষরণ হয়। এমন সময় বাইরে থেকে খকখক কাশির আওয়াজ পেয়ে মুহিত ও তার বাবা-মা ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। মুহিতের বন্ধু, তুহিন দৌড়ে এসে মুহিতকে
জড়িয়ে ধরে কাঁদোকাঁদো গলায় বলল, “দোস্ত, অবশেষে তোর চাকরি হয়েছে। তোর দিন-রাত পরিশ্রমের পুরস্কার আল্লাহ তোকে শেষে হলেও দিয়েছেন।”
এই বলে তুহিন পত্রিকার পাতায় মুহিতকে তার রোল নম্বর দেখালো। মুহিত মুহূর্তে মাকে জড়িয়ে ধরে আবেগে আপ্লুত হয়ে দু’চোখের জল ছেড়ে বলল,
“মা, আমার চাকরি হয়েছে। আমি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সিলেক্ট হয়েছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সাগরিকা প্রকাশনী ও বই বিপণি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত