1. admin@banglarkota.com : admin :
  2. jakariaborkoth@gmail.com : মোঃ তারেক হোসেন জাকারিয়া বরকত : মোঃ তারেক হোসেন জাকারিয়া বরকত
  3. adnanfahim069@gmail.com : মোঃ আবরার ফাহিম : মোঃ আবরার ফাহিম
  4. ridoyahmed.news@gmail.com : মোঃ হৃদয় আহমেদ : মোঃ হৃদয় আহমেদ
  5. irsajib098@gmail.com : মোঃ সজীব হোসেন : মোঃ সজীব হোসেন
নারীশিক্ষার গুরুত্ব" লেখনীঃআরিফা খাতুন।দৈনিক বাংলার কথ। - Banglar Kota
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১:১৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
আপনি কি গল্প, কবিতা, ছড়া, উপন্যাস লেখেন? কিন্তু প্রকাশের কোন মাধ্যম পাচ্ছেন না? কিছু সহজ শর্ত সাপেক্ষে সাগরিকা প্রকাশনী প্রকাশ করবে আপনার স্বপ্নের গ্রন্থটি। যোগাযোগঃ ০১৭৩১৫৬৪১৬৪

নারীশিক্ষার গুরুত্ব” লেখনীঃআরিফা খাতুন।দৈনিক বাংলার কথ।

Reporter Name
  • প্রকাশিত : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

নারীশিক্ষার গুরুত্ব”
লেখনীঃআরিফা খাতুন

ভূমিকাঃ মানুষের মনুষ্যত্ব বিকাশে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।নারী হোক বা পুরুষ হোক তাদের বড় পরিচয় হলো তারা মানুষ জাত।নারীদের মনুষ্যত্ব বিকাশের জন্য,উৎকৃষ্ট মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য শিক্ষার প্রয়োজন অনস্বীকার্য।একটি আদর্শ জাতীর জন্য একটি আদর্শ মা প্রয়োজন,চিরন্তন এ সত্যকে অস্বীকার করলে চলবে না। মা যদি শিক্ষিত না হয়,তাহলে সন্তান শিক্ষিত হবেনা,আর যদিও হয় তাহলে তা পূরন্যতায় রুপ পাবে না।
সন্তান শিক্ষিত না হলে স্বাভাবিকভাবেই জাতির ভবিষ্যৎ হয় অন্ধকার।
নারী শিক্ষার প্রসার নিশ্চিত করা সম্ভব হলে জাতীয় অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।সভ্যতার চরম উৎকর্ষের বহুমাত্রিক সুযোগ সুবিধার চূরান্ত ব্যবহার করতে হলে নারীশিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

নারী শিক্ষার অতীত ও বর্তমানঃ নারীশিক্ষার অতীত খুব সুখকর নয়।নানারকম সমস্যা অতীতে নারীশিক্ষা কে প্রসার হতে দেয়নি।ব্রিটিশ শাসিত অবিভক্ত ভারতে উনিশ শতকের আগে নারীশিক্ষা ছিল অবহেলিত বিষয়।তারও আগে থেকেই অবশ্য এ অবহেলার শিকার প্রথিত হয়।
নারীরা শিক্ষার আলো থেকে অবহেলিত ছিলো কিছু কারনেঃ
ক. ধর্মীয় অনুশাসন,
খ. সংস্কার,কুসংস্কার,
গ. পুরুষশাসিত সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি,
ঘ. নারীদের অঙ্গতা ও ধর্মীয় ভীতি,
ঙ. সাংস্কৃতিক চেতনার অভাব,
চ. শিক্ষা সম্পর্কে নারীদের উদাসীনতা,
ছ. পরনির্ভরশীলতা।

উপরুক্ত কারন গুলো আমাদের দেশে পাকিস্তান আমলেও বিরাজ মান ছিল।
বর্তমান সময়ে নারীশিক্ষা পূর্বের মতো দুর্দশার মাঝে না থাকলেও কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারে নি।
এখনও আমাদের দেশে নারীরা পুরুষের সঙ্গে সমান তালে শিক্ষালাভ করতে পারছেনা,অনেকাংশে পিছিয়ে আছে।

প্রয়োজনীয়তাঃ নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে এক সেমিনারে বলেছেন ‘নারীশিক্ষা একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রধান উপকরনসমূহের একটি।
এবং নারীশিক্ষার প্রয়োজন যুগ যুগ ধরেই ছিলো।
বর্তমান সভ্যতার আলোকে নারীশিক্ষার আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।দেশের সামাজিক, রাষ্ট্রীয়,পারিবারিক এমন কি ব্যক্তিগত উৎকর্ষের সঙ্গে নারীশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ জরিয়ে পড়েছে।দেশের লোকসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী।পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সবক্ষেত্রেই শিক্ষিত নারীর প্রয়োজন।শিক্ষিত নারী দেশের একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিক্তি তৈরি করতে পারে।
নারীশিক্ষার অভাবে যেসব অসুবিধা হচ্ছে সেগুলো হলোঃ আদর্শ পরিবার প্রত্যাশিতভাবে গড়ে উঠতে পারছে না।

শিক্ষিত সন্তান সন্তনি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সমাজ বহুলাংশে পিছিয়ে থাকছে।

অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা কাটছে না।

দাম্পত্য বেঝাপড়া স্বচ্ছল হচ্ছেনা।

অশিক্ষিত নারী কর্মহীন বিবেচনায় দেশের বোঝা হয়ে আছে।

নারীদের প্রকৃতিপ্রদত্ত গুনাগুন বিকশিত হচ্ছেনা।

সামাজিক অনাচার বাড়ছে,পারিবারিক কলহ বাড়ছে।

নারী তার নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সচেতন হতে পারছেনা।

উপরিক্ত পরিস্থিতি আমাদের দেশে নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে তীব্র করে তুলছে।
নারীশিক্ষার অনগ্রসরতার কারনে দেশের সমাজব্যবস্থায় বিরুপ প্রভাব মারাত্নকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এঅভাব গুলোর প্রতিকার নারীশিক্ষার মাধ্যমেই করা সম্ভব বলে নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনো দ্বিধাই চলে না।

নারীশিক্ষা সম্পর্কে গৃহীত পদক্ষেপঃ নারীশিক্ষা বিস্তারে স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারগুলো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অবশ্য পদক্ষেপ
গুলো বাস্তবায়ন হয়েছে খুব যৎসামান্য।বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। তা ছারা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা বা এন জি ও নিজেদের উদ্যোগে নারীশিক্ষা বিস্তারে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে যা খুবই আশাব্যন্জক।স্বাধীন দেশে নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও কাজ করছে।নারীর ক্ষমতায়ন ব্যবহারিক পর্যায়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে নারীশিক্ষার চলনান কর্মফল থেকেই।
প্রিতিষ্ঠিত হয়েছে নারীদের আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।এসব গৃহিত ব্যবস্থা নারীদের সংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল্য।তবুও একটি প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে নারীশিক্ষার যে অগ্রগতি হচ্ছে তার গন্তব্য নিশ্চয়নই অনেক দূর।

নারীশিক্ষার বিস্তারে করনীয় বিষয়ঃনারীশিক্ষা বিস্তারে সরকার কর্তৃক আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।বেসরকারি পর্যায়েও আরও বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহন করা উচিত।সবার সমন্বিত উদ্যোগেই কেবল নারীশিক্ষায় সফলতা এনে দিতে পারে।নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি নারীশিক্ষার বিস্তারের জন্য সরকার ও অন্যান্য মহলের লক্ষ রাখা দরকার।

নারীশিক্ষাকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হিসাবে বিবেচনা করতে হবে।

সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

গ্রাম ও শহর বিবেচনায় উপযুক্ত কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে।

প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে

একটি মনিটরিং সেল স্থাপন করে বৎসরান্তে নারীশিক্ষার অগ্রগতি মূল্যায়ন করার প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।

বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরন বিতরন করতে হবে।

সামাজিক সচেতনা বৃদ্ধির জন্যে প্রয়োজনীয় প্রচার- প্রচারনার ব্যবস্থা করতে হবে।

কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে।

নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত প্রদানের জন্যে শিক্ষা শেষে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

উপসংহারঃ নারীশিক্ষা আমাদের মতো দেশের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী।
তাই নারী কে অশিক্ষিত রেখে জাতীয় উন্নয়নের কথা কল্পনাই করা যায় না। নারীশিক্ষাকে অগ্রগন্য কর্মসূচি দ্বারা বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে সুফল পাওয়া যাবে।
আর তখনই দেশের উন্নয়নে নারীর ভূমিকা সংযুক্ত হয়ে তা দেশকে সমৃদ্ধির শীর্ষে নিয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সাগরিকা প্রকাশনী | সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব