1. admin@banglarkota.com : admin :
  2. jakariaborkoth@gmail.com : মোঃ তারেক হোসেন জাকারিয়া বরকত : মোঃ তারেক হোসেন জাকারিয়া বরকত
  3. adnanfahim069@gmail.com : মোঃ আবরার ফাহিম : মোঃ আবরার ফাহিম
  4. ridoyahmed.news@gmail.com : মোঃ হৃদয় আহমেদ : মোঃ হৃদয় আহমেদ
  5. irsajib098@gmail.com : মোঃ সজীব হোসেন : মোঃ সজীব হোসেন
কবি সায়রি হেলেন এর পথের ফুল।দৈনিক বাংলার কথ। - Banglar Kota
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০২:০০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
আপনি কি গল্প, কবিতা, ছড়া, উপন্যাস লেখেন? কিন্তু প্রকাশের কোন মাধ্যম পাচ্ছেন না? কিছু সহজ শর্ত সাপেক্ষে সাগরিকা প্রকাশনী প্রকাশ করবে আপনার স্বপ্নের গ্রন্থটি। যোগাযোগঃ ০১৭৩১৫৬৪১৬৪

কবি সায়রি হেলেন এর পথের ফুল।দৈনিক বাংলার কথ।

Reporter Name
  • প্রকাশিত : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

পথের ফুল

ধানমন্ডির লেকে পুকুর পাড়ে বসে আড্ডা চলছিল । তার মাজে মাজে পথ শিশুরা আসছে এক এক করে। কেউ ফুল হাতে,কেউ খালি হাতে,কেউ বলছে আপা ফুল নেন,কেউ বলছে ভাইয়া দুইডা টাকা দেন ? তবুও চলছে আড্ডা, চলছে গল্প । হঠাৎ যোহরের আযানের সুর ভেসে আসছে । প্রায় দুপুর গড়িয়ে কখন যে দুইটা বাজে । আমরা কেউ লক্ষই করিনি । রাজ হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে বলল, লাঞ্চ এর সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে ! দেখি কিছু নিয়ে আসি হেলেন তুই বস । আমি বসে আছি মিনিট দশ/পনেরো পরে রাজ হাতে একটা প্যাকেট নিয়ে আসল। বসতে বসতে বলল, ভালো কোন খাবার দোকান এই দিকে নেই । তেমন কিছু পেলামও না তাই বার্গার নিয়ে এলাম । রাজ প্যাকেট খুলে আমার হাতে ধরিযে দিয়ে ও অলরেডি খাওয়া শুরু করেছে । আমি বার্গারটা হাতে নিতেই একটা পথ শিশু দৌড়ে কাছে এসে বলল,আপা আমার খুব খিদা লাগছে । পথ শিশু এ কথা বলতেই রাজ আমাকে জোরে একটা ধমক দিল । আর বলল, খাবার এখনো হাতে নিয়ে বসে আছিস কেন ? খেয়ে নে তারাতারি । রাজ এর ধমকের ভয়ে পিচ্চিটা দৌড়ে চলে গেল । অবশ্য ও চোখ বড় বড় করে বাচ্চাটার দিকে তাকাচ্ছিল । তা না হলে তো ওরা তোর হাত থেকে খাবার কেড়ে নিয়ে দৌড়ে পালাবে । আমি অবাগ হয়ে রইলাম । আর ওর ভয়ে বার্গারে একটা কামড় দিলাম আর শিশুদের দিকে তাকিয়ে রইলাম অবাগ দৃষ্টিতে।
আর ভাবলাম আর যাই হোক কারো খাবার হাত থেকে কেড়ে নেবে ? এমন মানবতাহীন ওরা কিছুতেই হতে পারে না । হয়ত ওরা রাস্তায় থাকে,না খেয়ে থাকে অনেক বেলা,ওরা পথ শিশু হতে পারে কিন্তু অমানবিক নয় ! আর যাই হোক এমন কাজ করতে পারে না। ঠিক তাই হল-দেখছিলাম ওদের মায়ামাখা শুকনো মুখগুলো । খাবারের অভাবে অবহেলা,অনাদরে,মলিন পোশাকেও কেমন রুগ্ন লাগছে । ওদের শুকনো মুখগুলো দেখে খুব মায়া লাগছে। তবুও যেন অন্যরকম এক ধরনের অসম্ভব সুন্দর লাগছে ওদের। ও হ্যাঁ আমার গলা দিয়ে আর খাবার নামল না । কারন বার্গারটায় দুই কামড় এর বেশি আর দিতে পারিনি । তাই রাজ ও আমার খাবার টা একরকম বাধ্য হয়েই আমরা যেখানটায় বসেছি তার পাশে রেখে দেয় । দুইটা শিশু দৌড়ে এসে নিয়ে যায় । আমি দেখেছি তখন ওদের আনন্দের কতটা উচ্ছাস মলিন দেহ জুরে । ঠিক কতটা খুশি বয়ে চলেছে ওদের ভিতরে।
তখন ভাবলাম আমরাতো কোন কারনে একবেলা কম খেলে মন খারাপ করে বসে থাকে বাবা –মা । আর ওরা একবেলা একটু খাবার পেলে পৃথিবীর সমস্ত সুখ যেন এসে ওদের কাছে ধরা দেয় ।
যদিও আমরা তখন ছাত্র- ছাত্রী জীবনে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছিলাম আমরা দুজনেই চাইলেই ওদের জন্য কিছু করার সাধ্য ছিল না আমাদের । কিন্তু তখন থেকেই মনের ভিতরে গেঁথে রেখেছিলাম যদি কখন সুযোগ হয় তাহলে ওদের জন্য কিছু করব ইন-শা-আল্লাহ ।
আমি দৃষ্টি আকষ©ণ করছি সেই সব উচ্চ-বিত্তদের প্রতি যারা অঢেল টাকা-পয়সা,সহায়-সম্পত্তির মালিক যারা একটু চাইলেই ওদের পাশে এসে দাঁড়াতে পারে । তাহলে আমরা সবাই মিলে ওদের সাহায্য করে একটু একটু আলোর দিকে ধাবিত করতে । হয়ত একটু চেষ্টা করলেই পারব ওদের জীবনের আলোর দিশা ফিরিয়ে দিতে । ওদের ঐ মলিন মুখগুলোকে পারি হাসিতে ভরিয়ে দিতে । ওরাই হয়ে উঠতে পারে একদিন পথের এক একটা সুন্দর ফুটন্ত সজীব ফুল । যে ফুলগুলোকে দেখে অচিরেই দূর হতে পারে ক্লান্ত পথিকের ক্লান্তি । কে বলতে পারে হয়ত আপনি আমি আমরা কেউ না কেউ ভাগ্যেরফেরে ওদের মতো হতে পারতাম একটা পথ শিশু । তাই আসুন আমরা সবাই এগিয়ে যাই ওদের হাত ধরে তুলে আনি পথের ফুল নতুন বাগানের সন্ধ্যানে ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সাগরিকা প্রকাশনী | সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব