1. admin@banglarkota.com : admin :
  2. jakariaborkoth@gmail.com : মোঃ তারেক হোসেন জাকারিয়া বরকত : মোঃ তারেক হোসেন জাকারিয়া বরকত
  3. adnanfahim069@gmail.com : মোঃ আবরার ফাহিম : মোঃ আবরার ফাহিম
  4. ridoyahmed.news@gmail.com : মোঃ হৃদয় আহমেদ : মোঃ হৃদয় আহমেদ
  5. irsajib098@gmail.com : মোঃ সজীব হোসেন : মোঃ সজীব হোসেন
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
আপনি কি গল্প, কবিতা, ছড়া, উপন্যাস লেখেন? কিন্তু প্রকাশের কোন মাধ্যম পাচ্ছেন না? কিছু সহজ শর্ত সাপেক্ষে সাগরিকা প্রকাশনী প্রকাশ করবে আপনার স্বপ্নের গ্রন্থটি। যোগাযোগঃ ০১৭৩১৫৬৪১৬৪

উপন্যাস : সংসার লিখেছেন : মাহমুদ হাসান শেষ পর্ব।দৈনিক বাংলার কথা।

Reporter Name
  • প্রকাশিত : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০
  • ৭২ বার পড়া হয়েছে

উপন্যাস : সংসার
লিখেছেন : মাহমুদ হাসান
শেষ পর্ব


স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে প্রায় সপ্তাখানিক সময় লেগে গেল। একে-একে সব ফিরে পেলাম। সবাইকে আবার আপন করে কাছে পেলাম। নিজের প্রিয় ফ্লাটটিতেও চলে আসলাম। বন্ধু-বান্ধবদের সাথে গল্পচ্ছলে বেশ ভালো সময়ও কাটাতে লাগলাম কিন্তু প্রিয় রুমটিতে ঢুকলেই এক শূন্যতা আমায় তাড়া করে বেড়ায়! তাই আগের সেই আনন্দ পাচ্ছিলাম না। পাচ্ছিলাম না নির্জনতার মাঝে সেই সুখময় বিলাস। কেমন জানি ভয়ার্ত ভাব আমাকে ঝাপটে ধরে আছে এই নির্জনতায়। এই বুঝি অশরীরির নির্দয় আঘাতে আমার বুক চিরে হৃদয়টা বের হয়ে জলশূন্য মাছের মত ছটফট করছে; নিরবে!

গভীর রাতে হঠাৎ চোখ খুলে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। প্রথম কিছু রাত স্বপ্নটপ্ন দেখতাম না কিন্তু এরপর শুরু হয় ভয়ংকর সব আজগুবি স্বপ্ন দেখা! অদ্ভুত কিছু যে আমার সাথে ঘটতেছে তা আমি বেশ উপলব্ধি করতে পারছিলাম। রাতে ঘুম না হওয়ায় স্বাস্থ্য দিনেদিনে খারাপ হচ্ছিল। আগে রাত জেগে কবিতা, গল্প, উপন্যাস লিখতাম, পড়তাম তা আর এখন হচ্ছে না। সব যেন এলোমেলো এদিকে ব্যবসায়িক কাজে খুব বিজি হয়েও পড়লাম।

মন প্রিয় মানুষটির জন্য প্রায় সময় আনমনা হয়ে থাকে। ছোট বোন আমার এই দুরাবস্থা দেখে কয়েক বার আমাকে বললো, “ভাইয়া! শোভা আপুর বাক্সটা খুলে দেখো, শোভা আপু হয়তো তোমাকে কোন মেসেজ দিয়েছে!” আমি প্রতুত্তরে বলতাম, এই ওর নাম কখনো আমার সামনে নিবি না। আমি ওকে প্রচণ্ড ঘৃণা করি। দ্যাখোছ না এখন কাজে কতটা বিজি থাকি! পুরুষের লাইফে মেয়ে আসা মানে লাইফ শেষ হয়ে যাওয়া। যেমন মোমবাতিতে আগুন জ্বালালে সেটি জ্বলেপুড়ে শেষ হয়ে যায়।

বারোটা বছরের সম্পর্ক! এতো তাড়াতাড়ি কি ভুলা যায়? মনে মনে কখনো বলতাম ওকে হয়তো ধোঁকা দিয়েছে আবার নিজ থেকেই আওড়াতাম আরে ধ্যাৎ! ওকে কেউ ধোঁকা দিলে ও কেন আমাকে খবর দিবে? নিশ্চিয় আমার উপর কোন বিষয় প্রতিশোধ নিয়েছে! তখন ভাবনার জগতে হারিয়ে যেতাম। এমন কি হতে পারে যার জন্য ও আমাকে এতো বড় আঘাত দিল? মনে হলো যখন আমার পড়াশোনা শেষ মানে আমি দাওরা হাদীসের সমাপনী পরীক্ষা শেষ করে মাওলানা হই সেই সময় ও বলেছিল, চলো এইবার বিয়েটা করে ফেলি। আমি বলেছিলাম, দেখো এখনো আমি বাবা-র টাকায় চলি। নিজের পায়ে না দাঁড়িয়ে কীভাবে বিয়ে করি? আর যদি কোন মাদ্রাসায় চাকরি-বাকরি করি তাহলে বেতন আর কতো পাবো; এই ধর সর্বোচ্চ হাজার দশ! এতে কি হবে? তোমার পরিবারের লোকেরা বলবে, মেয়ে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশোনা করিয়ে হুজুর ছেলের কাছে বিয়ে দিবো? তখন তুমি বলেছিলে, আমরা আগে বিয়েটা সেরে ফেলি, সবাইকে পরে ম্যানেজ করা যাবে। আমি বলেছিলাম, দেখো! আমি পাঁচটা বছর ধরে বিয়ে-শাদি পড়াচ্চছি। এমন অনেক বিয়েও পড়িয়েছি তবে এর শেষ কারোই ভালো হয়েছে শুনিনি! কেউ দাম্পত্য জীবনে সুখী হলেও মা-বাবার চোখে এখনো ঘৃণিত। আবার কেউ মা-বাবার জন্য ভালোবাসার প্রিয় মানুষটাকেই ছুঁড়ে ফেলেছে ডাস্টবিনে…! সময় হলে দুনো পরিবারের সম্মতিতে ইনশাআল্লাহ আমাদের ধুমধামে বিয়ে হব। তুমি আমাকে আর দুইটা বছর সময় দাও…

কিন্তু এরপর ও তো এই বিয়ের ব্যাপারে আর কখনো কোনো কথাই বলেনি! ভাবনা থেকে ওকে ডিলিট করে দিয়েছে কিন্তু মাঝেমধ্যে কীভাবে যে রিকোভার হয়ে আমাকে এতো প্যাড়া দেয় বুঝে আসে না।

শেষ পর্ব

শোভা কি সব বকে যাচ্ছে সেদিকে একটুও খেয়াল নেই আমার। তখন তের বছর অতীত আজ আমার সামনে দিবালোকের মতো জ্বলজ্বল করছিল। মশার কামড়ে আমার ধ্যান ভাঙলো। রুমে যেতে চাইলাম, শোভা লাইনে তাই রুমেও যেতে পারছি না কারণ ছোট ভাই যে রুমে ঘুমুচ্ছে। আমাদের কথার কারণে ওর ঘুমে ডিস্টার্ব হলে সকালে ক্লাস করতে পারবে না।

শোভা প্রশ্ন করলো, আগের মত কি এখনো আমাকে নিয়ে কবিতা লেখো?
… না আমি এখন আর কবিতাটবিতা লিখি না।
… ও তা-ই?
… হম আচ্ছা তুমি আমাকে বলো, আমার নম্বর কার কাছে পেলে এবং কি জন্য কল দিয়েছো?
… তোমার নম্বর তো আর অমৃত না যে খুঁজে পাওয়া যাবে না!
… আচ্ছা এখনো তো বললে না কেন আমাকে ডিস্টার্ব করছো?
… তোমাকে ছোট কোন কিছু দেয়নি?
… হম দেয়েছে!
… ওটাতেই তো আমি সব রেখেছি!
… দেখো! তোমার বিয়ের পর তুমি আমার কেউ না তাই তোমার ঐ ফালতু বাক্সটা কখনো ধরেনি।
… ও তুমি আমার একটা কথা রাখবে?
… বলো! তুমি একবার ঐ বাক্সটা খুলে দেখো। আমি তোমার জন্য সেই ব্রিজের উপর অপেক্ষা করছি, তোমার পছন্দে কিনে দেওয়া শাড়ীটা পড়ে!
… তুমি কি একা দাঁড়িয়ে আছো?
… হম তোমার অপেক্ষায় আছি!
… কি যা-তা বকছো। তুমি এখন পরনারী, অন্যের স্ত্রী। এতো রাতে ব্রিজের উপর কেন দাঁড়িয়ে আছো, বাসায় চলে যাও কাল কল দিবো কেমন?
… প্লিজ তুমি বাক্সটা খুলে দেখো এরপর সিদ্ধান্ত নেও আসবে কি আসবে না! যদি না আসতে চাও তাহলে আমি তোমাকে আর কখনো কল দিবো না!

বাক্সটা প্রতিদিন দেখি। কারণ কম্পিউটারের টেবিলের উপর যে রাখা! কিন্তু অভিমানে কখনোই খুলে দেখিনি। বাক্সটা খুলতে কিছু ডাক্তারি প্রেসক্রিপশন চোখে পড়লো আর শোভার হাতের লেখা একটি চিঠি!
সারাংশ…
প্রিয়! গত সপ্তাহে রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে জানতে পারি, আমার দেহে ব্লাড ক্যান্সার! ডাক্তার সাহেব বাবাকে বলে দিয়েছেন, আপনার মেয়ে হয়তো এই পৃথিবীর আলো সর্বোচ্চ এক বছর দেখতে পারবে আর যদি ওর দেহের সমস্ত ব্লাড চেঞ্জ করেন তাহলে হয়তো আর মাসখানেক…

প্রিয়! তোমাকে ছাড়া আমার এই জীবন অসম্পূর্ণ আমি চাই না আমার সংস্পর্শে তোমার জীবনে নেমে আসুক অমাবস্যার রাত! তুমি তো সবসময়ই সুন্দরকে ভালোবাসো। আলোকিত জীবনের সন্ধানে থাকো তাই তোমাকে আমার বিয়ের আগে কিছুই বলিনি। তোমাকে বলেছিলাম বর যাত্রী আসার আগে আমাদের বাসায় আসতে তুমি আসোনি। এই আমার বর! আমাদের আত্মীয় হন। ইতালি প্রবাসী কিন্তু উনি মারাত্মক এক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে তার কিডনি দুনোটা নষ্ট হয়ে গেছে ডাক্তার উনাকেও আল্টিমেটাম দিয়ে দিয়েছেন। তাই উভয় পরিবারের আলোচনা সাপেক্ষে আমাদের বিয়ে হয় কিন্তু বিয়ের দিন তোমার আকস্মিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলাতে কেউ তোমাকে কিছু বলতে পারেনি! হয়তো ভুল আমি করেছি তোমাকে আমার রোগের সংবাদ না জানিয়ে!
আমাকে ক্ষমা করে দিও…

চিঠি পড়া শেষ করে কল দিলাম, আমি আসতেছি…

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সাগরিকা প্রকাশনী | সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব