1. admin@banglarkota.com : admin :
  2. jakariaborkoth@gmail.com : মোঃ তারেক হোসেন জাকারিয়া বরকত : মোঃ তারেক হোসেন জাকারিয়া বরকত
  3. adnanfahim069@gmail.com : মোঃ আবরার ফাহিম : মোঃ আবরার ফাহিম
  4. mdmamunhossen1222@gmail.com : মোঃ মামুন হোসেন : মোঃ মামুন হোসেন
  5. miraz55577@gmail.com : মোঃ মিরাজ সাহিত্য প্রতিনিধি : মোঃ মিরাজ সাহিত্য প্রতিনিধি
  6. nahidadnan124@gmail.com : নাহিদ হোসেন নিরব : নাহিদ হোসেন নিরব
  7. ridoyahmed.news@gmail.com : মোঃ হৃদয় আহমেদ : মোঃ হৃদয় আহমেদ
  8. irsajib098@gmail.com : মোঃ সজীব হোসেন : মোঃ সজীব হোসেন
গল্পঃ বদলা লেখিকাঃ জান্নাতুল_ফেরদৌসী_জেমি।দৈনিক বাংলার কথা। - Banglar Kota
শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
আপনি কি গল্প, কবিতা, ছড়া, উপন্যাস লেখেন? কিন্তু প্রকাশের কোন মাধ্যম পাচ্ছেন না? কিছু সহজ শর্ত সাপেক্ষে সাগরিকা প্রকাশনী প্রকাশ করবে আপনার স্বপ্নের গ্রন্থটি। যোগাযোগঃ ০১৭৩১৫৬৪১৬৪

গল্পঃ বদলা লেখিকাঃ জান্নাতুল_ফেরদৌসী_জেমি।দৈনিক বাংলার কথা।

Reporter Name
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০
  • ১৫৭ বার পড়া হয়েছে

 

নীলয় দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছেলে। গ্রামের বাড়ি বিক্রমপুর। পড়াশোনার জন্যই গ্রাম ছেড়ে শহরে আসা৷ কলেজ থেকে কিছুটা দূরে একাই একটা ফ্লাট ভাড়া নিয়ে থাকে। বাবার টাকাপয়সার অভাব নেই। যখন যা চায়, হাতের কাছে তাই পেয়ে যায়। ছোট থেকে হাতের কাছে সবকিছু পেয়ে পেয়ে যেন ছন্নছাড়া হয়ে গেছে সে।
দেখলে বোঝার উপায় নেই। শান্ত-শিষ্ট, ভদ্র চেহারার পেছনে এই অল্প বয়সেই কি ভয়ংকর এক রুপ আছে ওর।
কত মেয়ের জীবন যে নষ্ট করেছে প্রেম নামক খেলায় মেতে, সেটা সে নিজেই ভালো জানে । জীবন যেন ভোগ বিলাসিতার এক সামগ্রী মাত্র। কোনো কিছুকেই পরোয়া করে না, একেবারে উচ্ছন্নে গেছে ছেলেটি।

নীলয় শহরে আসার পর থেকে তার বিল্ডিংয়ের সবাই মোটামুটি তাকে ভালোই জানে। যদিও সে খুব একটা কারোর সাথে মেশে না।
বেশকিছু দিন সব ঠিকঠাকই যায়। তারপর নীলয়দের বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় এক ফ্লাটে ওঠে একটি পরিবার। যদিও নীলয় এসব ব্যাপারে জানতেও আগ্রহী নয়।

এদিকে আবার নীলয় প্রতিদিন কলেজে যাওয়ার সময় দেখতে পায় তাদের বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলার বেলকনি থেকে কেউ একজন তার দিকে তাকিয়ে থাকে। তার চলে যাওয়াটাকে যেনো উপেক্ষা করে। কিন্তু সে এর আগাগোড়া কিছুই বুঝতে পারে না। কে এই রমণী, আর কেনোই বা তার পানে চেয়ে থাকা! এসব ভাবনা যেনো কিছু সময় তার মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।

এমনই একদিন নীলয় ঘুম থেকে উঠতে অনেকেটা দেরি করে ফেলে। যার জন্য কলেজে যেতে দেরি হয়ে গেছে। তার উপর আজকে কলেজে ল্যাব ক্লাস আছে, তাড়াতাড়ি যেতে হবে। তাই সে যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব ফ্রেস হয়ে কলেজে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়ে। আর ভাবে পথিমধ্যে কিছু খেয়ে নেওয়া যাবে। নীলয় যখন চতুর্থ তলা থেকে নামতে থাকে তখন হঠাৎই খেয়াল করে দ্বিতীয় তলাার ওই ফ্ল্যাট থেকে একজন লোক বেরিয়ে যায়, হয়তো তার গন্তব্য অফিস। তখন সে আর কিছু না ভেবে নিচে নেমে আসে।

সকালের রোদটা যেনো আজকে একটু বেশিই মায়াবী। চারপাশটা নিজের আলোয় ছেয়ে নিয়েছে। এ যেনো প্রকৃতির সাজে অপরূপ এক সজ্জা। এতসব কিছুর মাঝেও তার বুঝতে বাকি রইলো যে, দ্বিতীয় তলার সেই রমণী তার পানে তাকিয়ে।

নীলয় সেদিক পানে তাকাতেই নীলয়ের চোখে সেই রমণীর চোখ পড়ে। আর অজানা সঙ্কায় রমণী চোখ নামিয়ে বেলকনি থেকে চলে যায়। নীলয় আর না দাঁড়িয়ে কলেজের পথে আবার রওনা হয়। খানিকটা পথ হাঁটার পর সে একটা রিকশায় ওঠে। এরপর বাসস্ট্যান্ড গিয়ে বাসে উঠতে হবে আর তারপরই কলেজ। রিকশা থেকে নামতে তার নজরে পড়ে সেই শ্যামলা বর্ণের এলোকেশী মেয়েটা। নীলয় প্রতিদিন যাকে একপলক দেখার নেশায় আসক্ত থাকে। যার দিকে তাকিয়ে থাকতে নীলয়ের বড্ড ভালো লাগে।

নীলয় মেয়েটার সম্পর্কে যতটা দরকার জেনে নিয়েছে। মেয়েটা তাদের কলেজের পাশের গার্লস স্কুলে পড়ে। আর তাদের গন্তব্য এক হওয়ায় প্রায়ই একই বাসে যায়। কিন্তু কখনো কথা হয় না। শুধু আড়চোখে তাকানো। এরপর কলেজ আসলে নীলয় বাস থেকে নেমে যায়।

ক্লাস শেষে নীলয় বাসায় ফিরতে ব্যস্ত। বাসার নিচে আসতেই সে খেয়াল করলো সেই রমণী বেলকনিতে দাঁড়িয়ে। তার চোখে যেনো অন্যরকম এক চাওয়া। শুন্য দুপুরটা যেনো তাকে ভীষণ একাকী করে দিয়েছে। বিষয়টা যেনো নীলয়কে ভীষণ ভাবে ভাবায়। ভাবতে ভাবতে নীলয় নিজের রুমে যায়। এরপর ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নেয়।

বিষণ্ণ দুপুরটায় যেনো তার ভীষণ একা লাগে যতসব বদবুদ্ধি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। সে একটা সিগারেটে আগুন ধরিয়ে চেয়ারে গা হেলান দিয়ে বসে পড়ে। এরপর দুপুর গড়িয়ে যখন বিকেল নামে তখন সে বাহিরে যাবে বলে মনস্তাপ করে। কিন্তু বিকেলে যে দুধ দিতে আসে, সেটার কি হবে! তবু সে বেরিয়ে পড়ে। হঠাৎই দ্বিতীয় তলায় এসে নীলয় থমকে দাঁড়ায়। ভাবে এই রমণীকেই বলা যাক দুধটা নিয়ে রাখতে। একসাথে রথ দেখা আর কলা বেচা দুটোই হবে। মনে মনে ভাবা আর ওমনি দরজায় কড়া নাড়া। ভেতরে থাকা রমণী অনেকটা অবাক হয়ে যায়। এই অসময় কে এলো! আবারো দরজার কড়া নাড়ার শব্দ শুনে রমণী দরজার কাছে এসে দরজার ফুটো দিয়ে তাকিয়ে দেখে নীলয় বাইরে দাড়িয়ে।

দরজা খুলেই রমণী বললো, জ্বী বলুন।
নীলয় একটু ইতস্তত বোধ করে বললো, “আমি একটু বাহিরে যাচ্ছি। দুধ দিতে আসলে আমারটা নিয়ে রাখিয়েন, ফেরার পথে নিয়ে যাবো”।
উত্তরে রমণী বললো, “ঠিক আছে। তবে আপনি কোথায় যাচ্ছেন”?
“একটু বাহিরে বের হবো। বাসায় একা একা ভালো লাগছে না।” নীলয় বললো।
“ভেতরে এসে বসতে পারেন। একসাথে চা খাওয়া যাবে, আমিও বাসায় একা।” রমণী।
“না থাক, আজ আর নয় অন্যদিন। এখন আসি।” বলেই নীলয় চলে গেলো।
রমণী নিজ মনে কিছুক্ষণ হেসে নিয়ে রুমের মধ্যে প্রবেশ করলো।

মাগরিবের আজান প্রায় শেষের দিকে। আজকে রিমা (নীলয়ের সেই রমণী) নিজেকে খুব পরিপাটি করে সাজিয়েছে। হয়তো বা এর কারণ নীলয়। একটু পরই দরজার কড়া নাড়ার শব্দ শুনেই রিমা দৌড়ে গেলো। দরজা খুলেই দেখে নীলয় দাঁড়িয়ে। নীলয় রিমাকে দেখেই বললো, “দুধের পটটা দিন”। রিমা নীলয়কে ভিতরে এসে বসতে বলে। নীলয় একবার দরজার ফাঁক দিয়ে ভিতরটা দেখে নেয়। ভিতরে কেউ নেই দেখে নীলয় রিমার কথায় প্রবেশ করে।

নীলয় ড্রয়িং রুমে বসে আছে। রিমা চা আনতে গেছে। হঠাৎই সে রুমের মধ্যে একটা ছোট বাচ্চার কান্নার আওয়াজ শুনতে পায়। রিমা চা নিয়ে আসতেই নীলয় জানতে চায় বাচ্চাটি কার? উত্তরে রিমা বলে, বাচ্চাটি রিমার। নীলয় একটু অবাক হয়। এরপর চা খেয়ে দুধের পট নিয়ে নিজের রুমে চলে আসে।

অথচ নীলয় আর রিমার এতো কথোপকথন বা যাতায়াত সম্পর্কে অবহিত নন বিল্ডিংয়ের বাকিসব পরিবার। সবাই যেন নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। কোথায় কি হচ্ছে, কে কি করছে এসব নিয়ে ভাবার সময় কারোর নেই।

রুমে এসেই নীলয় রিমাকে নিয়ে ভেবেই যাচ্ছে। অদ্ভুদ এক চলন রিমার। নীলয়কে যেনো খুব করে কাছে ডাকে। অন্যরকম এক চোখের ভাষা। এসব ভাবতে ভাবতেই নীলয় ঘুমিয়ে পড়ে। সকালবেলা উঠে আবার কলেজে যাওয়ার পথে নীলয় রিমার দরজায় কড়া নেড়ে দৌড়ে পালায়। নিচে নেমে দেখে রিমা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে হাসছে। নীলয়ও একটু হেসে নিয়ে চলে যায়। রিকশা থেকে নেমে অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে নীলয়, কিন্তু শ্যামল বর্ণের এলোকেশী মেয়েটাকে সে আজ দেখতে পায় না। তারপর বাস আসতেই চলে যায়।

কলেজ থেকে ফেরারপথে নীলয় সুপ্ত’র জন্য (রিমার ছেলে) একটা খেলনা নেয় আর রিমার জন্য এক গোছা ফুল। বাসার সামনে আসতেই নীলয় দেখে রিমা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। নীলয় ইশারায় রিমাকে দরজা খুলতে বলে। রিমা, মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। নীলয় রিমাদের রুমে প্রবেশ করে। রিমাকে খেলনা আর ফুলের গোছা দিয়ে বলে এটা সুপ্ত’র আর ফুলটা আপনার।

কথার ছলে নীলয় জানতে চায়, রিমার স্বামী কোথায়?
রিমা বলে, ও অফিসের কাজে কিছুদিনের জন্য দেশের বাহিরে গেছে। আসতে ১০-১২ দিন লেগে যাবে। কিছুক্ষণ কথা বলার পর নীলয় চলে যায় নিজের রুমে।

বিকেলে এক বন্ধুর কাছে জানতে পারে বাসস্ট্যান্ডের সেই শ্যামলা বর্ণের এলোকেশী মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেছে। নীলয় সে কথা শুনে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। এরপর সিগারেটের ধোয়ায় নিজেকে মাতিয়ে তোলে।

সন্ধ্যা গড়িয়ে যায় নীলয় তখনো ফেরে নি। রিমাকে একটু চিন্তিত লাগছে।
রাত আটটার দিকে নীলয়কে গেইটে দেখে রিমা রুমের দরজা খুলে দাঁড়িয়ে থাকে।

নীলয় আসতেই বলে ওঠে, আজ এতো দেরি করে ফিরলে যে? এমন তো হয় না।
নীলয় – নাহ, ওই ফ্রেন্ড’রা একটু আড্ডা দিলাম আজ।
রিমা- তবে যে তোমায় বিষন্ন লাগছে?
নীলয়- এমন কিছু না। আসি এখন ফ্রেশ হতে হবে।
রিমা – চা খেয়ে যাও, ভালো লাগবে।
নীলয় – এখন খাবো না, ক্লান্ত লাগছে।
রিমা – আচ্ছা একটু দাঁড়াও আমি দুধের পটটা এনে দিচ্ছি। জয়া কাকিমা দুধ রেখে গেছে, নিয়ে যাও।

নীলয় কিছু বলে না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। রিমা দুধের পট এনে দিলে নীলয় দুধ নিয়ে নিজের রুমে চলে যায়।

পরদিন দুপুরেও নীলয় উঠছে না দেখে ওর পাশের ফ্লাটের ফ্যামিলি দরজা ভেঙে রুমে প্রবেশ করে। দেখে নীলয়ের নিথর দেহ বিছানায় পড়ে আছে।
মুহুর্তেই পুরো বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে যায় নীলয়ের মৃত্যুর কথা। রিমারও নীলয়ের মৃত্যুর কথা শুনা বাকি থাকে না।

নীলয়ের মৃত্যুর কথা শুনে যেন রিমার ঠোঁটের কোনে ফুটে ওঠে এক অদ্ভুত হাসির ঝলক।

রিমা নিজে নিজেই বলে ওঠে, অবশেষে নিজের বোনের মৃত্যুর বদলা আমি নিতে পারলাম৷ আজ আমি সফল, নিজের লক্ষ্যে সফল। বোন তুই কই দেখ আমি পেরেছি, তোকে দেওয়া কথা আমি রাখতে পেরেছি। তোর সাথে যে প্রতারণা করেছে, তোকে আত্মহত্যা করতে যে বাধ্য করেছে সেই মৃত্যুর বদলা আজ আমি নিতে পেরেছি।
তোর মৃত্যুই আমাদের এক করে দিয়েছিলো নীলয়। তোর মৃত্যু যে আমার হাতেই লেখা ছিলো, তা না হয়ে কি পারে?

বলেই অদ্ভুত অট্টহাসিতে মেতে ওঠে রিমা। এ যেন মিথ্যে ভালোবাসায় আত্মহত্যা করা সেই ছোট বোনের মৃত্যুর বদলা৷ এক অন্যরকম আত্মতৃপ্তিতে মেতে ওঠে রিমার মন।
সে আজ ভীষণ খুশি, ভীষণ খুশি।

সমাপ্ত

সংবাদটি শেয়ার করুন

One thought on "গল্পঃ বদলা লেখিকাঃ জান্নাতুল_ফেরদৌসী_জেমি।দৈনিক বাংলার কথা।"

  1. Jannatul Ferdousi Jemi says:

    অসংখ্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সাগরিকা প্রকাশনী | সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব