1. admin@banglarkota.com : admin :
  2. jakariaborkoth@gmail.com : মোঃ তারেক হোসেন জাকারিয়া বরকত : মোঃ তারেক হোসেন জাকারিয়া বরকত
  3. adnanfahim069@gmail.com : মোঃ আবরার ফাহিম : মোঃ আবরার ফাহিম
  4. mdmamunhossen1222@gmail.com : মোঃ মামুন হোসেন : মোঃ মামুন হোসেন
  5. nahidadnan124@gmail.com : নাহিদ হোসেন নিরব : নাহিদ হোসেন নিরব
  6. ridoyahmed.news@gmail.com : মোঃ হৃদয় আহমেদ : মোঃ হৃদয় আহমেদ
  7. irsajib098@gmail.com : মোঃ সজীব হোসেন : মোঃ সজীব হোসেন
বর্ষন মুখর সন্ধ্যা সামাউন আলী - Banglar Kota
বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
আপনি কি গল্প, কবিতা, ছড়া, উপন্যাস লেখেন? কিন্তু প্রকাশের কোন মাধ্যম পাচ্ছেন না? কিছু সহজ শর্ত সাপেক্ষে সাগরিকা প্রকাশনী প্রকাশ করবে আপনার স্বপ্নের গ্রন্থটি। যোগাযোগঃ ০১৭৩১৫৬৪১৬৪

বর্ষন মুখর সন্ধ্যা সামাউন আলী

Reporter Name
  • প্রকাশিত : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০
  • ২১০ বার পড়া হয়েছে

আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি সমস্ত আকাশ কালো মেঘে ঢাকা। চারদিকে ঘোলাটে অন্ধকার ।সারাটা দিন সূর্যের মুখ দেখা যায়নি । যতদূর দৃষ্টি কেবল ঘন কাল মেঘের আনাগোনা, দুপুর না গড়াতেই শন শন শব্দে ঝাঁঝালো বৃষ্টি নামল আমাদের টিনের চালে । বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির ধারাও যেন বেড়েই চলছে থামাথামি নেই।ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে দেখি,আজ আষাঢ় মাসের পনেরো তারিখ।বর্ষার মাঝামাঝি,এ সময়তো বৃষ্টি তো হবেই ।

বিকেলের দিকে বৃষ্টির ধারা একটু হালকা হলেও সন্ধ্যার পূর্ব মুহূর্তে ঝুম ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো ।এই বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় অলস ভাবনায় কেটে যায় সময়।সামনে পরীক্ষা, টেবিলে বই,কিন্তুু পড়ায় মন বসছে না।অবিরল ধারায় বৃষ্টি ঝরছে।টিনের চালে যেন বর্ষাকন্যা নৃত্য করে চলছে।সেই একটানা বৃষ্টির নূপুর –নিক্কন আমাকে অন্য এক জগতে নিয়ে যায়।তরুন কবি সামাউন আলী যেন এমন বর্ষণমুখর সন্ধ্যার কথা স্মরণ করেই লিখেছেন একটি কবিতা তার কয়েকটি চরন হলোঃ

আষাঢ় মাসে বাদলা দিনে,
ঘরে বসে হায় একলা মনে।
থেকে থেকে মেঘ গর্জন করে,
দূরে যেন কথায় বাজ পরে।
আত্রাই নদীর বাঁধ ভেঙেছে,
ঢুকেছে গাঁয়ে বানের জল।
আষার মাসে বর্ষা নামে,
মুষলধারে বৃষ্টি ঝরে অবিরল।

সব কাজ ফেলে আপন মনে প্রকৃতির দেখা আর কী এক আকুলতায় নিজেকে আচ্ছন্ন রাখা।হয়তো কবি না হলে বর্ষার দিনের এমন মুহূর্ত অন্তর দিয়ে অনুভব করা যায় না । এ সন্ধ্যায় মনটা যেন উতলা হয়ে উঠেছে । আমাকে অন্য মনষ্ক করে তুলছে বৃষ্টির একটানা সুর ।মনের ভেতর নানা রকম ভাবনা ঢেউ খেলে যাচ্ছে ।সে অনুভূতির কোনো স্পষ্ট রূপ নেই , নির্দিষ্ট কোনো নাম নেই ।

রিমঝিম বৃষ্টির একটানা শব্দ আজকে মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে । জানালার পাশে বনে বৃষ্টির শব্দ শুনেছি । মাঝে মাঝে মেঘের গুরুগুরু গর্জন,গাছের ডালে বাতাসের ঝাপটা কানে বাজে। হঠাৎ বাজ পড়ার প্রচন্ড শব্দে চমকি উঠি ।আজ নিশ্চই রাস্তায় জনমানব নেই ।জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম ।বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে ,অন্ধকারে ভালো করে কিছু দেখতে পেলাম না।হারিকেনের আলো একটু বাড়িয়ে দিলাম।তখনো ঝর ঝর করে অবিরল ধারায় বৃষ্টি ঝরছে।একবার ভেবেছি একাগ্রচিত্তে পরীক্ষার পড়া পড়াব ,কিন্তুু বইয়ের পাতায় কিছুতেই মন বসছে না ।মনের মধ্যে তত্ত্বকথা উঁকি দেয় । জীবনটাকে সফল করার দুর্বার সাধনায় নামতে হবে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কীভাবে কাজে লাগানো যায়,তাও ভাবনায় আসে ।

ও ঘর থেকে মাকে ডাকছেন–‘আয়, খোকা, নাশতা খেয়ে যা।ঘরে মোমবাতি নেই, এই- ই সম্বল।’অগত্যা উঠতে হলো, বাবা, মা,ছোট বোন মিতু, আর বড় ভাই সাজেদ গরম গরম চা আর ঝালমুড়ি খেতে বসেছি।মিতু বলল,‘ভাইয়া এই অন্ধকারে বৃষ্টির দিনে ভূতের গল্প ভালো জমবে । ভাত খেয়ে চল ভুতের গল্প শুনি।

‘আমিও বললাম ,‘হ্যাঁ ভূতের গল্প শোনা যাক ’বড় ভাই সাজেদ গল্প শুরু করলেন ।কখনো ভূতের মতো নাকি সুরে ,কখনো ফিসফিস গলায় , কখনো জলদগম্ভীর কন্ঠস্বরে পরিবেশ বেশ ভয়ংকর হয়ে ওঠে।ভৌতিক ঘটনার বর্ণনা শুনে আমার গাঁ ছমছম করে উঠল।মিতু ইতোমধ্যে কাঁথার আড়ালে মুখ লুকিয়ে ফেলেছে।গল্পের এক রোমাঞ্চকর মুহূর্তে হঠাৎ ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলে ওঠে ।বাইরে তখনো তুমুল বৃষ্টি।নরম বিছানায় অলস ঘুমের মায়া কাটিয়ে আর কতক্ষণ দূরে থাকা যায় ।

বর্ষণমুখর সন্ধ্যা কেটে যায় ।আষাঢ়ের বৃষ্টির ধারা তখনো থামে না ।বিছানায় গাঁ এলিয়ে দিয়ে আমি একসময় ঘুমের আয়োজন করি ।বর্ষার জলতান্ডব তখনো কানে বাজে ।ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখি , জলপরীরা নৃত্য করছে সারা আকাশ জুড়ে, হঠাৎ রাত ০৩ টার দিকে কানে এসে পৌঁছল বিকট শব্দ আর সেই শব্দ শুনে বড় ভাই ও আমি চমকে গেলাম।আর তারপর বাবা-মা সহ বাড়ির আশে পাশের সবার ঘুম ভেঙে গেল।ঘর থেকে বের হতে না হতেই আবার সেই বিকট শব্দ।
তারপর সবাই ঘরের পিছনে গিয়ে দেখলাম পাশের বাড়ির ইয়াকুবের অপরিত্যাক্ত ঘরের মাটির দেওয়াল এই সর্বনাশা বর্ষনে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকুটাও ভেঙে দিয়ে গেল।এই দিকে তখন ও মুষল ধারে বৃষ্টি পড়ছেই। এমতাঅবস্হায় ঘরের কোনে বসে কাঁপতে কাঁপতে শেষ হয়ে গেল রাত্রি, সেই রাতে আর আমাদের নিদ্রা যাওয়া হলো না,আর ও চিন্তা বেড়ে গেল কিভাবে মাথা গোঁজা ঠাঁই টুকু মেরামত করা যায়, এই নিয়ে বাড়ির সকলেই ব্যাস্ত। তাই পরিশেষে বলতে চাই এই বর্ষন মুখর সন্ধ্যা কারো আনন্দের আবার কারো দুঃখের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

One thought on "বর্ষন মুখর সন্ধ্যা সামাউন আলী"

  1. abrar says:

    চমৎকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সাগরিকা প্রকাশনী | সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব